August 17, 2026, 3:14 pm
শিরোনাম :
পুলিশের ওপর গুলি ছোড়ার অভিযোগে পিস্তল-গুলিসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বিন্না ঘাসের ব্যবহার বিষয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সভা ‘ভাগ্য ভালো রাষ্ট্রপতি হতে চাননি’ হিরো আলমকে জয়ের কড়া খোঁচা ভূমধ্যসাগরে খাবার-পানির অভাবে ১১বাংলাদেশির মৃত্যু মাগুরার মাটিতে অ্যাভোকাডো চাষ, সফল তরুণ উদ্যোক্তা নাসির আশ্রয় নেওয়া ৩লাখ ৯হাজার রোহিঙ্গাকে স্বীকৃতি দিল মিয়ানমার কাবিখার ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার রাস্তা নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ আল-কায়েদা নিয়ে জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুমাননির্ভর: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৌদি আরবে ১৪ হাজার প্রবাসী গ্রেপ্তার, বহিষ্কার ১৩ হাজার ট্রেনের এসি কামরায় তাণ্ডব! অভিনেত্রী অন্তরা গ্রেপ্তার

কাবিখার ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার রাস্তা নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

আহসান হাবীব বাপ্পী, যশোর

যশোর সদর উপজেলার ১১ নম্বর রামনগর ইউনিয়নে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কাবিখা প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়িত একটি রাস্তা নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে অনিয়ম এবং সরকারি বরাদ্দ যথাযথভাবে ব্যবহৃত না হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রাম প্রসাদ রায়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কাবিখা প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে রামনগর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের খরিচাডাঙ্গা এলাকায় গৌতমের বাড়ি থেকে শম্ভুর বাড়ির অভিমুখে রাস্তা পূর্ণ নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়। প্রকল্পটির জন্য সরকারি বরাদ্দ ধরা হয় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তা নির্মাণে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি সড়কের সলিংয়ের কাজে প্রয়োজন অনুযায়ী বালি ব্যবহার করা হয়নি। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরও পর্যাপ্ত বালি না দেওয়ায় সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে দাবি তাদের।
এ ছাড়া নির্মাণকাজে পুরনো ইট ব্যবহারের অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রশ্ন, প্রকল্পের প্রাক্কলন অনুযায়ী নির্ধারিত মান ও পরিমাণের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে কি না এবং সরকারি বরাদ্দের পুরো অর্থ প্রকল্পের কাজে যথাযথভাবে ব্যয় হয়েছে কি না।
স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেন, সরকারি বরাদ্দের অর্থ সঠিকভাবে এবং নির্ধারিত মান অনুযায়ী ব্যয় করা হলে নির্মাণের মাত্র দুই-তিন মাসের মধ্যে রাস্তার বিভিন্ন অংশ বসে যাওয়া বা ইট উঠে যাওয়ার কথা নয়। তাদের অভিযোগ, রাস্তার বিভিন্ন স্থানে বসে গিয়ে পানি জমছে, ফলে স্থানীয়দের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
তাদের আরও অভিযোগ, সরকারি অর্থে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কের এমন পরিস্থিতি হলে জনগণ দীর্ঘমেয়াদে এর সুফল পাবেন না। নিম্নমানের কাজের কারণে ভবিষ্যতে একই সড়কে পুনরায় সংস্কারের জন্য সরকারি অর্থ ব্যয়ের আশঙ্কাও রয়েছে।
তবে প্রকল্পের প্রাক্কলন অনুযায়ী কী পরিমাণ ইট ও বালি ব্যবহারের কথা ছিল এবং বাস্তবে কতটুকু ব্যবহার করা হয়েছে, তা নিশ্চিত করতে প্রকল্পের Estimate, Work Order, Measurement Book (MB), বিল-ভাউচার ও প্রকল্প পরিদর্শন প্রতিবেদন যাচাই করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও), প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি এবং রামনগর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রাম প্রসাদ রায়ের বক্তব্য নেওয়াও জরুরি। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সরেজমিন পরিদর্শন ও প্রকল্পের পরিমাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা প্রকল্পটির কাজের মান, নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার এবং বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় হয়েছে কি না—তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতেই বিষয়টি উত্থাপিত হয়েছে। রাম প্রসাদ রায় বা সংশ্লিষ্ট অন্য কারও বিরুদ্ধে অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে—এমন দাবি করার সুযোগ নেই। সরকারি নথি, সরেজমিন পরিমাপ এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য যাচাইয়ের পরই অভিযোগের প্রকৃত সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।



ফেসবুক কর্নার