সাতক্ষীরার তালায় চিকিৎসক দেখানোর কথা বলে এক গৃহবধূকে ডেকে নিয়ে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে করা মামলায় এক নারীসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (১৬ আগস্ট) খুলনার পাইকগাছা থেকে অনুপ কুমার বিশ্বাস (৩৬) ও শিপ্রা বিশ্বাস (৩২) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলায় নাম উল্লেখ থাকা এস এম রাজু নামের অপর আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ৪০ বছর বয়সী ওই নারী খুলনার কয়রা উপজেলার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে পেটের ব্যথা ও স্ত্রীরোগজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। চিকিৎসার জন্য গত জুলাইয়ের শেষ দিকে বাবার বাড়িতে যান। পরে এক প্রতিবেশীর মাধ্যমে সাতক্ষীরা শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত এস এম রাজুর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। এজাহার অনুযায়ী, রাজু ভালো চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে গত ১৩ আগস্ট তাঁকে তালায় আসতে বলেন। সেখানে পৌঁছানোর পর হাসপাতালে না নিয়ে পরদিন চিকিৎসক দেখানোর কথা বলে একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। ওই নারী এতে রাজি হয়ে তাঁর সঙ্গে বাসায় যান। সেখানে খাবার খাওয়ার পর তিনি অসুস্থ হয়ে ঘুমিয়ে পড়েন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, পরে ঘুম থেকে উঠে তিনি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে বুঝতে পারেন। তাঁর ধারণা, খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক কিছু মেশানো হয়েছিল। এ ছাড়া তাঁকে ভয়ভীতি দেখানো ও মুঠোফোনে ধারণ করা ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার করে চাপে রাখার অভিযোগও করেছেন তিনি। পরদিন সকালে বাসা থেকে বের হয়ে তিনি স্বজনদের বিষয়টি জানান এবং পরে তালা থানায় মামলা করেন। তালা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ভুক্তভোগীর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে ভয় দেখানোর অভিযোগও তদন্ত করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মুঠোফোন উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তদন্তে আরও কেউ জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।