August 17, 2026, 10:37 am

কক্সবাজারে সৈকতে হঠাৎ টর্নেডোর আঘাত, আতঙ্কে শহর ছাড়ছেন পর্যটকেরা

অভয়নগর প্রতিবেদক

 কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে হঠাৎ সৃষ্টি হওয়া দুর্বল প্রকৃতির একটি টর্নেডোর আঘাতে লাবণী ও সুগন্ধা পয়েন্টের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা তছনছ হয়ে গেছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় সৈকতের চেয়ার-ছাতা, ভ্রাম্যমাণ দোকান ও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে আকস্মিক এই ঘূর্ণিবাতাসে পর্যটকদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সৈকতে দায়িত্ব পালনকারী ‘সি সেইফ লাইফগার্ড’-এর সদস্যরা জানান, দুপুরের পর থেকেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল। বিকেল তিনটার দিকে সাগরের ওপর কালো মেঘের মতো একটি ঘূর্ণি তৈরি হয়ে প্রবল বাতাস ও পানির সঙ্গে সুগন্ধা পয়েন্টের দিকে ধেয়ে আসে। ঘূর্ণিটি সৈকতের ওপর দিয়ে অতিক্রম করার সময় সামনে থাকা চেয়ার, ছাতা ও হালকা স্থাপনাগুলো উড়িয়ে নিয়ে যায়। এ সময় অনেক পর্যটক পুরো ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করেন, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
কিটকট ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি মাহবুবুর রহমান জানান, টর্নেডোর আঘাতে অন্তত ৫২টি কাঠের চেয়ার ও ৬১টি ছাতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া কয়েকটি ভ্রাম্যমাণ দোকান ও লকারও নষ্ট হয়েছে।

এই ঘটনার পর অনেক পর্যটক আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কয়েক দিনের জন্য কক্সবাজারে বেড়াতে এলেও অনেকে নির্ধারিত সময়ের আগেই ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ওশান প্যারাডাইস হোটেলের ডিউটি ম্যানেজার মুশফিকুর রহিম জানান, বিকেলের ঘটনার পর বেশ কয়েকজন অতিথি ছুটি সংক্ষিপ্ত করে পরদিন সকালেই কক্সবাজার ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানান। অনেক বুঝিয়েও তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করানো সম্ভব হয়নি।
দূরপাল্লার বাস পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত কাওসার খান বলেন, সাধারণত শুক্রবার কক্সবাজার ছাড়ার চাপ কম থাকে। তবে টর্নেডোর ঘটনার পর সন্ধ্যায় অনেক পর্যটক দ্রুত বাসে করে ফিরে গেছেন।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান জানান, এটি একটি দুর্বল প্রকৃতির টর্নেডো ছিল। অনুকূল আবহাওয়াগত পরিবেশ তৈরি হলে বছরের যেকোনো সময় এমন ঘূর্ণিবাতাস সৃষ্টি হতে পারে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে টর্নেডোর ঘটনা বেশি ঘটলেও বাংলাদেশেও অতীতে এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের নজির রয়েছে।
জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুর রহমান সায়েম জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জানার পর প্রশাসন খোঁজ নিয়েছে। এ ঘটনায় কোনো হতাহত হয়নি। তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কেউ আগেভাগে কক্সবাজার ত্যাগ করলে সেটি তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তবে এ বিষয়ে হোটেল মালিকদের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ বা তথ্য দেওয়া হয়নি



ফেসবুক কর্নার