বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি মডেল থানার আওতাধীন স্টিমারঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই কাজী শাওনকে কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) গভীর রাতে আকস্মিকভাবে তাকে ফাঁড়ি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। অল্প কিছুদিন দায়িত্ব পালন করলেও বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি আলোচনায় ছিলেন। তার বিরুদ্ধে আটক বাণিজ্য এবং আসামি ধরতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে গালিগালাজসহ একাধিক অভিযোগ ওঠে। তাকে প্রত্যাহারের ঘটনায় স্থানীয়দের অনেককে স্বস্তি প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে বরিশাল রেঞ্জের সাবেক এক পুলিশ কর্মকর্তার স্বজনকে বান্দরোড এলাকা থেকে আটক করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, পরে এসআই কাজী শাওন তাকে টহল গাড়িতে নিয়ে ঘোরেন এবং জিম্মি করে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করেন। বিষয়টি ওই সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করলে রাতেই শাওনকে ফাঁড়ি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে সূত্রগুলোর দাবি। তবে আটক বাণিজ্যের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন এসআই কাজী শাওন। তার দাবি, তাকে হঠাৎ বদলি করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি পুলিশের চাকরিতে এমন ঘটনা স্বাভাবিক বলেও মন্তব্য করেন। তাকে শাস্তিমূলকভাবে প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দেননি।
এসআই শাওনকে ক্লোজড করার বিষয়টি বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মামুন উল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন। তবে কেন তাকে গভীর রাতে প্রত্যাহার করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। তার স্থলে স্টিমারঘাট ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন এএসআই মহিউদ্দিন। সোমবার রাতের ঘটনা নিয়ে তিনিও গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। বিষয়টি নিশ্চিত করতে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। তবে বিএমপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, সোমবার রাতের ঘটনার প্রেক্ষাপটেই শাওনকে পুলিশ লাইন্সে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আটক বাণিজ্যের অভিযোগও ছিল। এসআই শাওন জুলাইয়ের মাঝামাঝি স্টিমারঘাট ফাঁড়ির ইনচার্জ হিসেবে যোগদান করেছিলেন। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com