
নোয়াখালীতে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রথমবারের মতো এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৪ মে) ভোর সোয়া ৪টার দিকে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত সামিত (৬) সুবর্ণচর উপজেলার কাটাখালি গ্রামের মফিজুল হকের ছেলে।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রাজীব আহম্মেদ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ১০৪ জন শিশু ভর্তি রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী জানান, শনিবার বিকেলে শিশুটিকে তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য আইসিইউ সুবিধাসম্পন্ন হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরে রোববার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন এলাকায় হাম ও ডায়রিয়ার প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বর্তমানে হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডে ৯৪ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৪০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
রোগীর অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তীব্র শয্যাসংকটের কারণে হাম ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের একই ওয়ার্ডে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। এতে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি শিশুদের অভিভাবকদের অভিযোগ, হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ না থাকায় বেশিরভাগ ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। এছাড়া জেলার প্রধান সরকারি হাসপাতালে শিশুদের জন্য আইসিইউ সুবিধা না থাকায় সংকটাপন্ন রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকামুখী হতে হচ্ছে।
এদিকে জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ সবাইকে শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে।