
ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে নোয়াখালীর এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। পরীক্ষার সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত না হলে পরীক্ষা প্রস্তুতি ও পরীক্ষাকেন্দ্রের কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে উদ্বেগ জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
উপকূলীয় জেলা নোয়াখালীতে এ সময় প্রায়ই আকস্মিক ঝড়-বৃষ্টি, মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়া ও তীব্র গরম বিরাজ করে। এর সঙ্গে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিভ্রাট যোগ হওয়ায় জনজীবনে ভোগান্তি বাড়ছে। এবার জেলার ৯টি উপজেলার ৪৪টি কেন্দ্রে প্রায় ২২ হাজার শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।
চাটখিলের পরীক্ষার্থী তাসমিয়া বলেন, “প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ঠিকমতো পড়াশোনা করা যাচ্ছে না।” আরেক পরীক্ষার্থী মোসা. মাইমুনা জানান, অতিরিক্ত গরম ও লোডশেডিংয়ের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেক শিক্ষার্থী, যা পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বাধা সৃষ্টি করছে।
নোয়াখালী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী জোবায়ের বলেন, পরীক্ষার সময় অন্তত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হলে শিক্ষার্থীরা ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে পারবে এবং স্বস্তিতে পরীক্ষা দিতে পারবে।
সদর উপজেলার এক বাসিন্দা জানান, প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত তিন থেকে চার ঘণ্টা এবং দিনের বিভিন্ন সময়ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকছে। এতে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গ্রীষ্ম মৌসুমে নোয়াখালীতে বিদ্যুতের সম্মিলিত চাহিদা ২০০ মেগাওয়াটের বেশি। সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের কারণে চাহিদা কমে ১৬০ থেকে ১৭০ মেগাওয়াটে নেমে এলেও সরবরাহ সংকট পুরোপুরি কাটেনি। বর্তমানে মোট চাহিদার বিপরীতে গড়ে প্রায় ৭০ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।
নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মকবুল আলম বলেন, জাতীয় গ্রিড থেকে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ বরাদ্দ না পাওয়ায় প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তিনি জানান, কেন্দ্রীয়ভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে এ সংকট অনেকটাই কমে আসবে।
এদিকে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা এইচএসসি পরীক্ষাকালীন সময়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।