
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের আমানতের মালিক হতে নয়, সেই আমানতের চৌকিদার হতে চান তিনি ও তার দল। মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ লুট করে বিদেশে পাচার করার কোনো ইচ্ছে জামায়াতের নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে ঢাকা-৭ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ও ১০ দলীয় জোট সমর্থিত সংসদ সদস্য প্রার্থী হাফেজ হাজী মো. এনায়েত উল্লাহর নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আপনারা যদি বিশ্বাস করে আপনাদের আমানত আমাদের হাতে তুলে দেন, তাহলে আমরা আগামী পাঁচ বছর মালিক হয়ে বসে থাকব না। চৌকিদার হয়ে সেই আমানত পাহারা দেব। স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমরা মালিক নই, আমরা চৌকিদার হতে চাই।”
‘চলো একসাথে গড়ি বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম এবং ডাকসুর ভিপি ও ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক সাদিক কায়েম। সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ও আসন পরিচালক আব্দুর রহমান।
দুর্নীতির বিষয়ে কঠোর বক্তব্য দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, “যারা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার কথা বলেন, তাদের আগে নিজেদের ঠিক করতে হবে। ঋণখেলাপিদের নিয়ে নির্বাচন করে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়া যায় না। এটা তামাশা ছাড়া কিছুই নয়। সত্যিই পরিবর্তন চাইলে ঋণখেলাপিদের বাদ দিয়েই মাঠে আসতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “যে দল চাঁদা না পেলে নিজের দলের লোকদেরই হত্যা করে, সেই দলের সঙ্গে দাঁড়ানোর আগে জনগণকে অবশ্যই ভাবতে হবে।”
বক্তব্যের একপর্যায়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সময় এখন জাতির সামনে দুটি পথ খুলে দিয়েছে— আলো ও অন্ধকার। প্রশ্ন হলো, আমরা কোন পথ বেছে নেব?
যুবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমরা যুবকদের বেকার ভাতা দিয়ে অলস বানাতে চাই না। আমরা তাদের হাতে কাজ তুলে দিতে চাই, যাতে তারা সম্মানের সঙ্গে জীবন যাপন করতে পারে। যুবকরাই আমাদের শক্তি ও অনুপ্রেরণা।”
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “‘হ্যাঁ’ মানে আজাদির পক্ষে, নিপীড়িত ও মজলুমের পক্ষে। আর ‘না’ মানে গোলামি, চাঁদাবাজি ও আধিপত্যবাদের পক্ষে। আমরা ঘরে ঘরে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারণা চালাব। ইনশাআল্লাহ, ‘হ্যাঁ’-ই বিজয়ী হবে।”
ঢাকা-৭ আসনে হাজী মো. এনায়েত উল্লাহকে বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “ওল্ড ইজ গোল্ড। সোনা যত পুরোনো হয়, ততই খাঁটি হয়। আমরা পুরান ঢাকাকে শুধু আধুনিক করব না, গোল্ড বানাবো। সেই গোল্ড বানাতে হলে এনায়েত উল্লাহকে ভোট দিয়ে জয়ী করুন।”
বক্তব্যের শেষে প্রার্থী হাজী মো. এনায়েত উল্লাহর হাতে নির্বাচনী প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ তুলে দেন ডা. শফিকুর রহমান।
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়েছে। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রচার চালানো যাবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com