বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিগত সরকারের ভুলনীতি, লুটপাট ও দুর্নীতির কারণে খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। জামায়াত জনগণের রায়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে বন্ধ মিল-কারখানা পুনরায় চালুর পাশাপাশি নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন করা হবে। তিনি বলেন, আমরা যুবসমাজের হাতে বেকার ভাতা তুলে দিয়ে তাদের অপমান করতে চাই না, বরং সম্মানের কাজ তুলে দিতে চাই। কর্মসংস্থানের মাধ্যমে যুবকদের মর্যাদার সঙ্গে বাঁচার সুযোগ করে দিতে চাই।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী খুলনা মহানগরী ও জেলা শাখার আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই বিপ্লবে যুবসমাজ যে অবদান রেখেছে, আমরা তার ঋণ শোধ করতে চাই কর্মসংস্থান ও ন্যায্য সুযোগ সৃষ্টি করে। তিনি ভোটাধিকার প্রসঙ্গে বলেন, প্রতিটি নারী-পুরুষের ভোটের অধিকার রক্ষার দায়িত্ব জনগণেরই। ভোট যার যেখানে ইচ্ছা সেখানে দেবে, তবে আমরা ভোটারদের নিরাপদে ভোটকেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছে দিতে চাই। তিনি বলেন, ১৩ ফেব্রুয়ারি আমরা একটি অভিশাপমুক্ত বাংলাদেশ চাই।
তিনি দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে এবং তার আগের বিভিন্ন সহিংসতায় নিহত শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। পাশাপাশি আহত, পঙ্গু, কারাবন্দি, গুমের শিকার ও দেশান্তরী হতে বাধ্য হওয়া সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে জামায়াত আমীর বলেন, সিন্ডিকেট, চাঁদাবাজি, ব্যাংক ও শেয়ারবাজার লুট করে তারা বিদেশে বেগম পাড়া গড়েছে। তিনি বলেন, আমি আজ এখানে শুধু জামায়াতের পক্ষে কথা বলতে দাঁড়াইনি, দাঁড়িয়েছি সেই সব মা-বাবা, বোন ও শিশুদের পক্ষে—যাদের পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে।
৫ আগস্টের পর প্রতিহিংসার রাজনীতি না করে জামায়াতের নেতাকর্মীরা পাহারাদারের ভূমিকা পালন করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমেই জনগণ বুঝেছে তারা কার কাছে নিরাপদ। ভবিষ্যতে জামায়াত রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে মন্ত্রী-এমপিদের ব্যক্তিগত লাভ নয়, বরং পুরো বাংলাদেশকে মর্যাদাশীল ও শক্ত অর্থনীতির ওপর দাঁড় করানো হবে।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একদিকে ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে মা-বোনদের গায়ে হাত দেওয়া হচ্ছে। যারা এমন কাজ করছে তাদের ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের রায়ের ওপর আস্থা রাখুন। অতীতে যারা তা করেনি, তাদের পরিণতি ভালো হয়নি।
জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির নেতা রাশেদ প্রধানসহ ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের বিভিন্ন প্রার্থী ও খুলনা জেলা-মহানগরের নেতৃবৃন্দ।
