কুড়িগ্রাম-৪ আসনের নির্বাচনী হাওয়ায় উত্তাল এখন উত্তরের জনপদ। আজ মঙ্গলবার রৌমারী উপজেলার ২নং শৌলমারী এম.আর স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব আজিজুর রহমান (বিএসসি)-এর সমর্থনে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। মিজানুর রহমান মিনুর প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে রৌমারী উপজেলা বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ঢল নামে।
নেতাকর্মীদের সংকল্প:
সভায় রৌমারী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান রঞ্জু গত ১৭ বছরের রাজনৈতিক দমন-পীড়নের কথা স্মরণ করে বলেন, "আমরা দীর্ঘ সময় অনেক নির্যাতন সহ্য করেছি। এখন সময় এসেছে ধানের শীষকে বিজয়ী করে সেই দুঃশাসন থেকে নিস্তার পাওয়ার।" অন্যদিকে, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক নাজিম উদ্দিন আকন্দ (ভারপ্রাপ্ত) উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে ধানের শীষের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান।
প্রার্থীর আবেগঘন বক্তব্য:
জনসভার প্রধান আকর্ষণ কুড়িগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থী আলহাজ্ব আজিজুর রহমান (বিএসসি) আল্লাহর প্রশংসা করে তার বক্তব্য শুরু করেন। ৮০ বছর বয়সে পদার্পণ করা এই প্রবীণ নেতা নিজেকে একজন ‘কৃষক’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেন, "কৃষিই আমার প্রধান পেশা। এই মাটিতেই আমার শৈশব, কৈশোর ও যৌবন কেটেছে।"
নদী ভাঙন কবলিত মানুষের দুঃখ তুলে ধরে তিনি বলেন, "আমি নিজে একজন নদীভাঙ্গা মানুষ। নদী ভাঙনের যন্ত্রণা আমার চেয়ে বেশি কেউ বুঝবে না।" তিনি আক্ষেপ করে বলেন, অতীতে রাস্তাঘাট, শিক্ষা ব্যবস্থা বা যুবকদের কর্মসংস্থানে কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখা হয়নি। নির্বাচিত হলে এই সমস্যাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
অতীত ও বর্তমানের চ্যালেঞ্জ:
নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি ১৯৯১ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনের প্রসঙ্গ টানেন। তিনি বলেন, "৯১-তে স্থানীয় আবেগের কারণে জয় বঞ্চিত হয়েছিলাম এবং ১৮-তে নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েও তৎকালীন সরকার প্রহসন করেছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি আমাদের সামনে বড় সুযোগ এসেছে। এদিন ধানের শীষকে বিজয়ী করে আমাদের প্রমাণ দিতে হবে।"
তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রশংসা করে বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে তাঁর দূরদর্শী বক্তব্য দেশের মানুষের মনে আশার আলো জাগিয়েছে।
উন্নয়নের রূপকার:
আজিজুর রহমান (বিএসসি) রৌমারীর কৃষি উন্নয়নে তার ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, তিনিই প্রথম এই অঞ্চলে শ্যালো মেশিন স্থাপন এবং গম বীজ রোপণের মাধ্যমে আধুনিক চাষাবাদের সূচনা করেছিলেন।
আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি ভোটের মাধ্যমে শৌলমারীকে বিএনপির অভেদ্য ঘাঁটি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে এবং এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে তিনি সকলের দোয়া ও ধানের শীষ মার্কায় ভোট প্রার্থনা করেন।