
নির্বাচনের মাঠে এবার সবচেয়ে উত্তপ্ত লড়াইটা হচ্ছে ভার্চুয়াল জগতে। পোস্টার, লিফলেট আর ব্যানারের জায়গা দখল করেছে ভিডিও, গ্রাফিক্স, লাইভ স্ট্রিম ও রিলস। কয়েক ডলার খরচ করলেই একটি রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে যাচ্ছে দেশের প্রায় ১৩ কোটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর কাছে। এর মধ্যে সাড়ে ৬ কোটির বেশি ফেসবুক, প্রায় ৫ কোটি ইউটিউব এবং বাকিরা ইনস্টাগ্রাম ও টিকটক ব্যবহারকারী।
এই বিপুল দর্শকসংখ্যাই সোশ্যাল মিডিয়াকে এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রচারণার অস্ত্রে পরিণত করেছে।
প্রায় সব বড় দলের প্রার্থীই এবার আলাদা ডিজিটাল টিম গঠন করেছেন। এসব টিমে রয়েছেন ভিডিও এডিটর, গ্রাফিক্স ডিজাইনার, কনটেন্ট রাইটার, এআই প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ার এবং এসইও বিশেষজ্ঞরা। অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলের নিজস্ব ডিজিটাল কর্মীদের পাশাপাশি কাজ করছে বিজ্ঞাপনী সংস্থা ও অনলাইন মার্কেটিং ফার্ম।
ছোট ভিডিও, থিম সং, শর্ট নাটক, সাক্ষাৎকার, জনসভার ক্লিপ, মিমস—কোনো কিছুই বাদ যাচ্ছে না। পাশাপাশি চলছে পেইড বুস্ট বা বিজ্ঞাপন।
ডিজিটাল মার্কেটিং সংশ্লিষ্টদের মতে,
একটি সংসদীয় আসনে মাঝারি মাত্রার ডিজিটাল প্রচারণায় দৈনিক ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।
বড় শহরের আসনগুলোতে পুরো নির্বাচনী সময়ে এই খরচ কয়েক কোটি টাকা ছুঁতে পারে।
তবে এসব ব্যয় আনুষ্ঠানিকভাবে কোথাও প্রকাশ করা হয় না।
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী প্রার্থীদের ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়ার কথা থাকলেও সোশ্যাল মিডিয়ার বিজ্ঞাপন ব্যয় সেখানে কতটা সঠিকভাবে উঠে আসে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অনেক প্রচারণা চালানো হয় তৃতীয় পক্ষের পেজ, গ্রুপ কিংবা ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে, যা সরাসরি প্রার্থীর নামে ধরা পড়ে না।
ঢাকা-১০ আসনে বিএনপির প্রার্থী রবিউল আলম রবি বলেন,
“ইচ্ছা করলেই অচেনা কোনো পেজ বা গুপ্ত জায়গা থেকে নেতিবাচক প্রচারণা চালিয়ে একজন প্রার্থীর ইমেজ নষ্ট করা যায়। এটা বন্ধ না হলে ভোটাররা বিভ্রান্ত হচ্ছে।”
জামায়াতের নির্বাচনী প্রচারণা কমিটির সদস্য মোবারক হোসাইন বলেন,
“গুগল, ইউটিউবসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে কে কী করছে, সেটা খুঁজে বের করা খুবই কঠিন। নির্বাচন কমিশনের জন্য যেমন কঠিন, আমাদের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্যও তেমনি কঠিন।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজিটাল প্রচারণার এই অদৃশ্য খরচ ও নিয়ন্ত্রণহীনতা ভবিষ্যতে নির্বাচনী স্বচ্ছতার বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,
সোশ্যাল মিডিয়া ব্যয়ের স্বচ্ছ রিপোর্টিং ব্যবস্থা
তৃতীয় পক্ষের পেজ ও পেইড কনটেন্টে নির্দিষ্ট লেবেলিং
এবং নির্বাচন কমিশনের ডিজিটাল মনিটরিং সেল শক্তিশালী করা
এগুলো না হলে “কোন দল কত খরচ করলো”—এই প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর পাওয়া কঠিনই থেকে যাবে।
তবে একটি বিষয় পরিষ্কার, এবারের নির্বাচনে ভোটের লড়াই যতটা না পোস্টারে, তার চেয়েও বেশি লড়াই চলছে স্ক্রিনে।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com