বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাসজীবন শেষে গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে আসেন। রাজধানী ঢাকায় সেদিন লক্ষাধিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ তাকে স্বাগত জানাতে সমবেত হন। দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে যেমন ছিল উচ্ছ্বাস, তেমনি সাধারণ মানুষের মধ্যেও লক্ষ্য করা গেছে আশার সঞ্চার।
সংবর্ধনা মঞ্চে তার জন্য একটি রাজকীয় চেয়ার নির্ধারিত থাকলেও তিনি সেটি সরিয়ে একটি সাধারণ চেয়ারে বসেন। লেখকের মতে, এ সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে একাত্মতার বার্তা দিতে চেয়েছেন। এটি তার রাজনৈতিক বার্তার একটি প্রতীকী প্রকাশ হিসেবে অনেকে দেখছেন।
বক্তব্য দেওয়ার আগে তিনি উপস্থিত জনতাকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান এবং দেশবাসীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন। তার বক্তব্য ছিল সংযত ও পরিকল্পনামূলক। প্রতিশোধমূলক বা আক্রমণাত্মক ভাষা পরিহার করে তিনি জাতীয় ঐক্য, সম্প্রীতি ও সহযোগিতার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এই ভূখণ্ডের সকল নাগরিকের—ধর্ম, বর্ণ বা জাতিগত ভেদাভেদ নয়; বরং সহাবস্থানই হোক অগ্রযাত্রার ভিত্তি।
তিনি সমতল ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠী, মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সবার সমান অধিকারের কথা তুলে ধরেন। বক্তব্যে মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি তিনি দেশ গঠনে জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন। তার ভাষণকে অনেকেই রাষ্ট্রনায়কসুলভ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
লেখকের মতে, দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা বেড়েছে। জনগণ একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক সরকার দেখতে চায়। এ প্রেক্ষাপটে অনেকেই তারেক রহমানকে সম্ভাব্য নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করছেন।
রাজনীতিতে অভিজ্ঞতা ও পরিপক্বতা গুরুত্বপূর্ণ—এই যুক্তি তুলে ধরে লেখক বলেন, সময়ের সঙ্গে নেতার চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন স্বাভাবিক। অতীত ও বর্তমানের মধ্যে পার্থক্য টেনে তিনি দাবি করেন, বর্তমানে তারেক রহমানের বক্তব্য ও আচরণে দায়িত্বশীলতা ও পরিণত নেতৃত্বের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
বাংলাদেশ বর্তমানে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি—এমন অভিমত ব্যক্ত করে লেখক আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া জোরদার ও জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে একটি শান্তি, সমৃদ্ধি ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন সেই প্রত্যাশাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
লেখার শেষাংশে লেখক দেশের কল্যাণ ও অগ্রযাত্রার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে স্লোগান উচ্চারণ করেন—“সবার আগে বাংলাদেশ”।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com