
বর্তমানে সাধারণ ভোক্তার জীবনে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হলো বাজারদর। বিশেষ করে চিনি ও সয়াবিন তেলের দাম এমন অবস্থায় পৌঁছেছে, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। এক সময় যে চিনির দাম ৫০ টাকার মধ্যে ছিল, আজ তা ১৭০ টাকায় এসে ঠেকেছে। একইভাবে সয়াবিন তেল, যার দাম হওয়া উচিত ৮০ টাকার নিচে, এখন তা ২০০ টাকারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ হলো সরকারি তদারকির অভাব এবং বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা। যদি বানিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি বিশেষ উইং-কে দায়িত্ব দেওয়া হয়—যে উইং আমদানির ধাপ থেকে শুরু করে খুচরা বিক্রি পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে খরচ ও ন্যায্য মুনাফা নির্ধারণ করবে—তাহলে পণ্যের দাম অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হতো। এতে ব্যবসায়ীরা অযৌক্তিকভাবে মুনাফা করতে পারতেন না, আর ভোক্তারাও সাশ্রয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য কিনতে পারতেন।
কিন্তু দুঃখজনক হলো, দীর্ঘ সময় ধরে সরকার কোনো পণ্যের দাম কমানোর উদ্যোগ নেয়নি। বরং বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি—সবকিছুর দাম একের পর এক বাড়ানো হচ্ছে। এর ফলে বাজারে এক প্রকার অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে, যার বোঝা বহন করতে হচ্ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে।
এখন সময় এসেছে দায়িত্বশীল বাজার তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলার। ভোক্তা স্বার্থ সুরক্ষায় বাস্তবভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ নীতিমালা প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়নে কঠোর ভূমিকা নিতে হবে। অন্যথায় পণ্যদ্রব্যের অস্বাভাবিক দাম সাধারণ মানুষের জীবনে আরও দুর্ভোগ বয়ে আনবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com