বাগেরহাট-৩ (রামপাল–মোংলা) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়–এর দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োজিত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ ঘোষণায় উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে।
১৭ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি প্রথমে তারেক রহমান–কে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথবাক্য পাঠ করান। পরে পর্যায়ক্রমে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীদের শপথ পড়ানো হয়। ওই অনুষ্ঠানেই ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।
উপকূলের বাস্তবতা ও পরিবেশের গুরুত্ব
রামপাল–মোংলা অঞ্চল প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ ও পরিবেশগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন ও লবণাক্ততার প্রভাব এখানকার মানুষের জীবন-জীবিকায় গভীর ছাপ ফেলেছে। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন–সংলগ্ন হওয়ায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব তার জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
বিশ্লেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, উপকূলীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং দুর্যোগ-সহনশীল পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এখন সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ সময়ের দাবি।
পরিবেশ আন্দোলন থেকে মন্ত্রণালয়ে
ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম সেজদা সুন্দরবন ফাউন্ডেশন–এর চেয়ারম্যান হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বন উজাড় প্রতিরোধ ও পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে আসছেন। তার পরিবেশবিষয়ক কর্মকাণ্ড দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে আলোচিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল দাবি করছে।
মানবিক কর্মকাণ্ডে আস্থার প্রতীক
রাজনীতির পাশাপাশি মানবিক উদ্যোগেও তিনি আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছেন। বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও অপারেশন কার্যক্রম, চিকিৎসা শিবির, ত্রাণ সহায়তা ও শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে প্রশংসা অর্জন করেছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, দুর্দিনে পাশে থাকা একজন অভিভাবক হিসেবে তিনি আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।
আইন ও ধর্ম বিষয়ক দায়িত্বে প্রত্যাশা
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ায় আইনের শাসন নিশ্চিতকরণ, বিচারপ্রক্রিয়ার গতি বৃদ্ধি এবং সংসদীয় কার্যক্রমে স্বচ্ছতা জোরদারের প্রত্যাশা করছেন সচেতন মহল।
একইসঙ্গে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং সামাজিক নৈতিকতা চর্চা গুরুত্ব পাবে—এমন আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ধর্মীয় নেতারা।
সামনে জনগণের প্রত্যাশা
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়:
নদীভাঙন ও লবণাক্ততা রোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
সুন্দরবনকেন্দ্রিক পরিবেশ সুরক্ষায় দৃশ্যমান উদ্যোগ
জলবায়ু অভিযোজন প্রকল্প বাস্তবায়ন
দুর্যোগ-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়:
আইনের শাসন নিশ্চিতকরণ
বিচারপ্রক্রিয়ার গতি বৃদ্ধি
আইনি সহায়তা সম্প্রসারণ
দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন জোরদার
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়:
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি শক্তিশালী করা
ধর্মীয় শিক্ষা ও প্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়ন
মানবিক মূল্যবোধ চর্চা
রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ আসনটি দীর্ঘ সময় একদলীয় প্রভাবাধীন ছিল। প্রায় তিন দশক পর ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে আসন পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে শেখ ফরিদুল ইসলাম নতুন রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন বলে পর্যবেক্ষকদের মত।
সব মিলিয়ে, তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য নতুন সম্ভাবনার বার্তা বহন করছে। এখন দেখার বিষয়—এই দায়িত্ব কত দ্রুত বাস্তব উন্নয়ন, পরিবেশ সুরক্ষা, ন্যায়বিচার ও সামাজিক সম্প্রীতিতে প্রতিফলিত হয়।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com