বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন–এ কাঁকড়া আহরণে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা চলায় উপকূলীয় জেলে পরিবারগুলো চরম সংকটে পড়েছে। নিষেধাজ্ঞার দেড় মাস পার হলেও সাতক্ষীরার শ্যামনগরসহ বিভিন্ন এলাকায় বহু পরিবারের ঘরে নিত্যদিনের খাবার জোগাড় করাই কঠিন হয়ে উঠেছে।
বন বিভাগ জানায়, কাঁকড়ার প্রজনন মৌসুমে উৎপাদন বৃদ্ধি ও বনজ সম্পদ সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রতি বছরের মতো জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে কাঁকড়া আহরণ বন্ধ রাখা হয়েছে। এ সময়ে বনের নদী-খালে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকায় জেলেরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। বন বিভাগের দাবি, সাময়িক এই বিরতি ভবিষ্যতে কাঁকড়ার উৎপাদন বাড়াবে এবং দীর্ঘমেয়াদে জেলেদেরই উপকারে আসবে।
তবে বাস্তবে শ্যামনগর উপজেলা, কয়রা উপজেলা ও আশাশুনি উপজেলার বহু জেলে পরিবার বিকল্প আয়ের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। গাবুরা ও বুড়িগোয়ালিনীর জেলেরা জানান, দীর্ঘদিন নদীতে যেতে না পারায় আয় বন্ধ। ধারদেনা ও এনজিওর কিস্তির চাপ বাড়ছে, বাজার খরচ মেলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
অনেকের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞার সময় সরকারি সহায়তার আশ্বাস মিললেও তা সবার কাছে পৌঁছেনি। সময়মতো চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পেলে দুর্ভোগ কিছুটা কমত বলে দাবি তাদের।
উপকূলীয় সুন্দরবন রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক আশেক-ই-ইলাহি বলেন, বন ও প্রাণিজ সম্পদ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজনীয় হলেও এ সময়ে জেলেদের জন্য বিশেষ ভিজিএফ কার্ড, প্রণোদনা বা বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা উচিত। যথাযথ সহায়তা না থাকলে অনেকেই পেটের দায়ে আইন ভাঙতে বাধ্য হতে পারেন বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
নিষেধাজ্ঞার বাকি সময় কীভাবে কাটবে—এই দুশ্চিন্তায় এখন দিশেহারা সুন্দরবননির্ভর হাজারো পরিবার। উপকূলবাসীর দাবি, বন রক্ষার পাশাপাশি বননির্ভর মানুষের জীবন-জীবিকাও টেকসইভাবে নিশ্চিত করতে হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com