সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলা জুড়ে নিরাপত্তার নামে ক্ষমতার অপব্যবহার ও চাঁদাবাজির যে গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে, তা এখন শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার জবাবদিহিতা ও নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গোয়েন্দা পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক ব্যক্তি ভয়ভীতি, নির্যাতন ও আর্থিক হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা কর্পোরাল হুমায়ুনের বিরুদ্ধে নতুন করে বিভিন্ন ভুক্তভোগী মুখ খুলতে শুরু করেছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও মৎস্যচাষিদের দাবি, নিয়মিত মাসোহারা না দিলে প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি, মামলা দেওয়ার হুমকি কিংবা সরাসরি হয়রানির ঘটনা ঘটেছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ দুই-ই বাড়ছে।
সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি মহাজনপুর বিল এলাকায়, যেখানে রাতের অন্ধকারে দুই যুবককে তুলে নিয়ে মারধর ও টাকা আদায় করার অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগীদের পরিবারের দাবি, এটি ছিল সুপরিকল্পিত ভয় দেখানোর কৌশল ও চাঁদাবাজি । একইভাবে আনুলিয়া গ্রামের এক যুবকের বিরুদ্ধে তল্লাশির নামে নির্যাতন ও পরে মামলায় জড়ানোর অভিযোগও স্থানীয়দের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য সরাসরি অভিযান চালানো বা কাউকে আটক করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। সেই প্রক্রিয়া লঙ্ঘিত হলে বিষয়টি শুধু প্রশাসনিক নয়, ফৌজদারি তদন্তেরও আওতায় আসতে পারে।
এ বিষয়ে ডিজিএফআই–এর সাতক্ষীরা অঞ্চলের উপপরিচালক রেজাউল হক জানিয়েছেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভুক্তভোগীদের সরাসরি যোগাযোগ করতে আহ্বান জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত হুমায়ুন অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং তদন্ত হলেই সত্য প্রকাশ পাবে।
তবে সচেতন মহল বলছে, অভিযোগ সত্য না মিথ্যা তা নির্ধারণের একমাত্র পথ হচ্ছে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত। একই সঙ্গে অভিযোগকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে অনেকেই সামনে আসতে সাহস পাবেন না, ফলে সত্য চাপা পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থেকেই যাবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের দাবি,
উচ্চপর্যায়ের স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন।
অভিযুক্তের কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত, ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, তদন্তের ফলাফল প্রকাশ্যে আনা।
কারণ একটাই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে অভিযোগ যত বড়ই হোক, তার নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতেই হবে।
আশাশুনির ঘটনাটি এখন একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে: নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব যার, তার বিরুদ্ধে যদি নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ ওঠে তবে তা উপেক্ষা করার সুযোগ রাষ্ট্রের নেই। জনগণের প্রত্যাশা পরিষ্কার, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নিশ্চিত করতে হবে এখনই।