ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় মেঘনা নদীতে দীর্ঘদিন ধরে চলা ড্রেজিং কার্যক্রমের কারণে তীরবর্তী গ্রামের মাটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ভুক্তভোগি ও স্থানীয়রা বালুমহালে বাধাঁ দিলে, মহালের সঙ্গে জড়িতরা এলোপাতারি গুলি ছুঁড়ে অর্ধশত গ্রামবাসী আহত হয়েছেন। এতে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকাল ৯টার দিকে নবীনগর পশ্চিম ইউনিয়নের চরলাপাং চরে এই ঘটনা ঘটে। বালুমহালে বাধাঁ দেয়ার পর মহালের লোকজন স্পিডবোট নিয়ে এসে গ্রামবাসীর ওপর গুলি বর্ষণ করে। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় থাকা ব্যক্তিরা হলেন রুপ মিয়া, ইব্রাহিম, ছেলে নুরুন্নবী, জসিম, সিয়াম, আলী হোসেন ও শাখাওয়াত হোসেন। তাদের নৌ পথে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কিছু গুরুতর আহতকে অন্যত্র রেফার করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মেসার্স সামিউল ট্রেডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান পূর্বনির্ধারিত স্থানে ড্রেজিংয়ের জন্য কয়েক বছর ধরে চর এলাকা থেকে মাটি কাটছে। এতে মেঘনার তীরবর্তী চরলাপাং, চিত্রী, দড়িলাপাং, নরসিংহপুর, নবীপুর, শান্তিপুর ও মির্জাচরসহ একাধিক গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে নবীনগর উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং ইতোমধ্যেই কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
সদ্য নির্বাচিত সংসদ সদস্য এডভোকেট আব্দুল মান্নান বলেন, “বালুমহালের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com