বাগেরহাট জেলা সদর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে কর্মরত আউটসোর্সিং কর্মীদের কাছ থেকে বেতন পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা মোহিতুর রহমানের বিরুদ্ধে। তবে অভিযুক্ত কর্মকর্তা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে এখানে ৯৪ জন আউটসোর্সিং কর্মী কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে ৬৬ জন পুরোনো নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মী ২০২৫ সালের জুন মাস থেকে বেতন পাচ্ছেন না। তাদের মাসিক বেতন ১৬ হাজার ৫০০ টাকা। গত আট মাস ধরে বেতন বন্ধ থাকায় তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে দাবি করেন।
ভুক্তভোগী কর্মীদের অভিযোগ, বেতন ছাড় করিয়ে দেওয়ার কথা বলে প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা মোহিতুর রহমান বিভিন্ন সময়ে তাদের কাছ থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকা নেন। এছাড়া পূর্বে বেতন প্রদানের সময় জনপ্রতি ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। বেতন সম্পর্কে জানতে চাইলে চাকরি থেকে অব্যাহতির হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন কয়েকজন কর্মী।
আউটসোর্সিং কর্মী আকলিমা বেগম বলেন, “আট মাস ধরে বেতন না পেয়ে ধারদেনা করে সংসার চালাতে হচ্ছে। বেতনের কথা বললেই ঘোরানো হয়।”
আরেক কর্মী বর্না বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। কাজ করে বেতন না পেলে চলবো কীভাবে? আগে বেতন দিলে টাকা কেটে নেওয়া হতো।”
আউটসোর্সিং কর্মীদের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন জানান, দ্রুত বেতন ছাড় করানোর আশ্বাসে তাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি। ৬৬ জন কর্মীর দ্রুত বেতন পরিশোধের দাবি জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা মোহিতুর রহমান বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। নিয়ম অনুযায়ীই কাজ করা হচ্ছে।”
স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ জানান, আউটসোর্সিং কর্মীদের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভুক্তভোগী কর্মীরা দ্রুত বেতন পরিশোধ ও অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com