১৯৮২ সালে একটি যৌন নির্যাতনের মামলায় ভুলবশত দোষী সাব্যস্ত হয়ে কারাবরণ করেন Steven Phillips। দীর্ঘ ২৪ বছর কারাগারে থাকার পর ২০০৮ সালে ডিএনএ প্রযুক্তির সহায়তায় তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণিত হন এবং মুক্তি লাভ করেন।
বিনা অপরাধে জীবনের দীর্ঘ সময় কারান্তরালে কাটানোর ক্ষতিপূরণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের Texas অঙ্গরাজ্য সরকার তাকে প্রায় ৬ মিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭০ কোটি টাকার সমপরিমাণ) প্রদান করে।
ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পরই নতুন আইনি জটিলতা তৈরি হয়। ফিলিপসের প্রাক্তন স্ত্রী, যিনি তার কারাবাসের সময় ডিভোর্স দেন, ক্ষতিপূরণের অর্থে অংশ দাবি করে আদালতে আবেদন করেন।
প্রাক্তন স্ত্রীর আইনজীবীর যুক্তি ছিল—ফিলিপস যখন কারাগারে ছিলেন, তখন তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল ছিল। তাই এই ক্ষতিপূরণের অর্থ ‘বৈবাহিক সম্পত্তি’ বা ‘কমিউনিটি প্রপার্টি’ হিসেবে গণ্য হওয়া উচিত। তাদের দাবি, ফিলিপস জেলে না থাকলে যে আয় করতেন, ক্ষতিপূরণ সেই সম্ভাব্য আয়ের বিকল্প; ফলে এতে স্ত্রীর অংশীদারিত্ব রয়েছে।
তবে আদালত এই যুক্তি নাকচ করে দেন। বিচারক রায়ে উল্লেখ করেন, এই অর্থ মূলত ব্যক্তিগত স্বাধীনতা হরণ ও দীর্ঘদিনের মানসিক-শারীরিক যন্ত্রণার ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করা হয়েছে। এটি কেবল ‘হারানো উপার্জন’-এর বিকল্প নয়, বরং ‘ব্যক্তিগত আঘাতের’ (Personal Injury) ক্ষতিপূরণ।
আইন অনুযায়ী ব্যক্তিগত আঘাতজনিত ক্ষতিপূরণ বৈবাহিক যৌথ সম্পত্তির অন্তর্ভুক্ত নয়। ফলে ফ্যামিলি ডিস্ট্রিক্ট জজ রায়ে স্পষ্ট করেন, Steven Phillips-এর প্রাক্তন স্ত্রী এই অর্থের কোনো অংশ পাবেন না।
এই ঘটনা ন্যায়বিচার, ক্ষতিপূরণ আইন এবং বৈবাহিক সম্পত্তি সংক্রান্ত আইনি ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে আলোচিত হয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com