কার কথা কে শোনে—যার মতো সে চলে! সরকারি গেজেট অনুযায়ী জনসেবায় নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিয়মিত বেতন-ভাতা পেলেও সাধারণ মানুষের প্রাপ্য সেবা মিলছে না—এমন অভিযোগই উঠে এসেছে যশোরের মণিরামপুর এলাকার নাগরিকদের মুখে। সেবার নামে প্রহসন, অব্যবস্থাপনা ও নজরদারির অভাবে পৌরবাসীর দৈনন্দিন জীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ।
ড্রেনেজ সংকট: মশার কারখানায় পরিণত নগরী
সরেজমিনে দেখা গেছে, নতুন-পুরাতন বহু ড্রেনেই পানি জমে আছে মাসের পর মাস। বিশেষ করে হাকোবা, মণিরামপুর, মোহনপুর, তাহেরপুর, কামালপুর ও দুর্গাপুর ওয়ার্ডে নির্মিত অর্ধশতাধিক ড্রেনের মুখ ও নদীমুখে আবর্জনা জমে পানি নিষ্কাশন বন্ধ। ফলে বদ্ধ জলাশয় তৈরি হয়ে মশার প্রজনন বেড়েছে আশঙ্কাজনক হারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের স্থির পানিতে এডিসসহ বিভিন্ন প্রজাতির মশা দ্রুত বংশবিস্তার করে, যা ডেঙ্গুসহ নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। সবচেয়ে ঝুঁকিতে শিশু ও বয়স্করা।
প্রকল্প আছে, কার্যকারিতা নেই
সাবেক উপজেলা ও পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা নিশাত তামান্নার সময় সৌন্দর্যবর্ধন, ৯০০ মিটার ড্রেন নির্মাণ, মশক নিধন, যানজট নিয়ন্ত্রণে লোকবল নিয়োগসহ একাধিক প্রকল্পে বরাদ্দ হলেও বাস্তব অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়—এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর। কোথাও ড্রেন নির্মাণ হলেও তদারকির অভাবে অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
যানজট: রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সও আটকে
মণিরামপুর বাজারে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং ও ফুটপাত দখলে নিয়মিত যানজট তৈরি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যামে আটকে পড়ে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সও। রাস্তা সংস্কার হলেও প্রশস্ত না হওয়ায় সমস্যা রয়ে গেছে আগের মতোই।
বাজারে মনিটরিং নেই, বাড়ছে দাম
রমজান শুরু হতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারণে বাজারে কার্যকর মনিটরিং নেই। অন্যান্য উপজেলায় নজরদারি থাকলেও এখানে তেমন তৎপরতা দেখা যায়নি বলে অভিযোগ।
সিসি ক্যামেরা, ডাস্টবিন ও পানি সরবরাহেও প্রশ্ন
পৌরসভার উদ্যোগে সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও যানজট নিয়ন্ত্রণে লোকবল নিয়োগের কথা থাকলেও বাস্তবে কার্যকারিতা নেই। এলজিইডি ও জাইকার সহায়তায় বিতরণ করা বহু ডাস্টবিন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে; কোথাও নিয়মিত ময়লা অপসারণ না হওয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।
পানি সরবরাহেও অনিয়মের অভিযোগ—আয়রনযুক্ত কমলা রঙের দুর্গন্ধযুক্ত পানি সরবরাহ ও মাঝে মাঝে লাইনে পানি না থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত বিল আদায় করা হচ্ছে।
প্রশাসনের বক্তব্য
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সম্রাট হোসেন জানান, সম্প্রতি ঘরোয়াভাবে মশক নিধন অভিযান উদ্বোধন করা হয়েছে; পর্যায়ক্রমে সব এলাকায় স্প্রে করা হবে।
তবে অতীতে সংবাদ প্রকাশের পর সাময়িক তৎপরতা দেখা গেলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি—এমন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা। দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে মণিরামপুর স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পরিবেশ দূষণের নগরীতে পরিণত হবে বলে আশঙ্কা সচেতন মহলের।
সমন্বিত উদ্যোগ ও জবাবদিহিমূলক কার্যক্রমই পারে এ সংকট থেকে নাগরিকদের মুক্তি দিতে—এমন প্রত্যাশা এখন মণিরামপুরবাসীর।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com