প্রকৃতি যেন দুই হাত উজাড় করে সাজিয়েছে উত্তরের জনপদ রৌমারী উপজেলাকে। বিশেষ করে বলদমারা নৌকা ঘাট থেকে ফলুয়ারচর নৌকা ঘাট পর্যন্ত বিস্তৃত ব্রহ্মপুত্র নদ-এর তীরবর্তী এলাকাটি যে কারো মন ভরিয়ে দেওয়ার মতো। নদীর বিস্তৃত জলরাশি, দিগন্তজোড়া আকাশ আর সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য প্রতিদিনই নতুনভাবে মুগ্ধ করে দর্শনার্থীদের। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অবহেলায় পড়ে আছে। আসন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠেছে—ভাবী জনপ্রতিনিধিরা কি পারবেন এই এলাকাটিকে একটি পরিকল্পিত পর্যটন কেন্দ্রে রূপ দিতে?
সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত
রৌমারীর এই অঞ্চলটি কেবল একটি নদীর পাড় নয়; এটি হতে পারে পুরো জনপদের অর্থনীতির গেম-চেঞ্জার। নদীর বুক চিরে সূর্যাস্ত দেখা কিংবা মুক্ত বাতাসে কিছুটা সময় কাটানোর জন্য এর চেয়ে আদর্শ স্থান আর হয় না। এলাকাবাসীর মতে, সামান্য কিছু নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা গেলেই এটি একটি আকর্ষণীয় ও জনপ্রিয় পর্যটন স্পটে পরিণত হতে পারে।
পরিকল্পিত উন্নয়নের জন্য যা প্রয়োজন
এই এলাকাকে পর্যটনবান্ধব করে তুলতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে—
বসার সুব্যবস্থা ও পার্ক: নদীর পাড় ঘেঁষে আধুনিক বেঞ্চ ও ছোট পার্ক স্থাপন।
হাঁটার পথ (ওয়াকওয়ে): নদীতীরের সৌন্দর্য উপভোগের জন্য দৃষ্টিনন্দন ও নিরাপদ হাঁটার পথ নির্মাণ।
নৌকা ভ্রমণের সুযোগ: লাইফ জ্যাকেটসহ নিরাপদ ও আধুনিক নৌ-ভ্রমণের ব্যবস্থা।
নিরাপত্তা ও আলোকসজ্জা: পর্যাপ্ত সোলার ল্যাম্প বা আধুনিক আলোকসজ্জার মাধ্যমে রাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব
বলদমারা থেকে ফলুয়ারচর পর্যন্ত এলাকাটিকে পর্যটনবান্ধব করা গেলে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। গড়ে উঠতে পারে নতুন ক্ষুদ্র ব্যবসা, রেস্তোরাঁ ও হস্তশিল্পের দোকান। এতে স্থানীয় তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং রৌমারীর পরিচিতি সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে। পাশাপাশি উন্নত হবে যাতায়াত ব্যবস্থা, যার সুফল ভোগ করবে সাধারণ মানুষ।
জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান
নির্বাচনের সময় নানা প্রতিশ্রুতি শোনা যায়। তবে উন্নয়নের এই সুনির্দিষ্ট রূপকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজন আন্তরিকতা ও দূরদর্শী পরিকল্পনা। আগামী দিনের জনপ্রতিনিধিদের কাছে এলাকাবাসীর আহ্বান—কেবল অবকাঠামো নয়, প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগিয়ে একটি আধুনিক ও বিনোদনসমৃদ্ধ জনপদ গড়ে তুলুন।
রৌমারীর গর্ব এই ব্রহ্মপুত্র নদ। সঠিক পরিকল্পনা ও উদ্যোগ থাকলে বলদমারা-ফলুয়ারচর এলাকা কেবল রৌমারীর নয়, বরং সমগ্র কুড়িগ্রাম জেলার অন্যতম আকর্ষণীয় বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। এখন দেখার বিষয়, আগামী দিনের নেতৃত্ব এই জনদাবিকে কতটা গুরুত্ব দেয়।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com