চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ ইউনিয়নে ইফতারের পর বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জামায়াত সংশ্লিষ্ট এক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন এবং অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যায় এ সংঘর্ষের পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
নিহত হাফিজুর রহমান, যিনি স্থানীয়ভাবে ঢাকা জুয়েলার্সের মালিক হিসেবে পরিচিত এবং বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমানের ভাই। সংঘর্ষে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হলে সেখানে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আহত ইউনিয়ন আমির মফিজুর রহমানকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমান (৪০), জামায়াত কর্মী খায়রুল ইসলাম (৫০) ও মাহফুজ (২৫), হাসাদাহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান (৩৫) এবং তার বাবা জসীম উদ্দীন (৬০)। তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। গুরুতর আহতদের যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্বের একটি বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর উপজেলার সুটিয়া গ্রামে স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার রেশ ধরে শনিবার সন্ধ্যায় বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমান ও তার সহযোগীরা মোটরসাইকেলে হাসাদাহ বাজারের দিকে যাওয়ার সময় কামিল মাদ্রাসার সামনে পৌঁছালে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে ছয়জন আহত হন।
জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান এ ঘটনার জন্য জামায়াতকে দায়ী করেছেন। অপরদিকে উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা সাজেদুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, তাদের নিরীহ নেতাকর্মীদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়েছে।
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলাইমান শেখ জানান, পূর্বের মারধরের ঘটনার জের ধরেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনী কাজ করছে। এ ঘটনায় রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় জামায়াতের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com