
পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের লীলার মেলা বাজারে অবস্থিত ‘রাফিয়া চিজ পয়েন্ট’-এর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখন আর শুধু মান নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা রীতিমতো আইন অমান্য, ভোক্তা প্রতারণা এবং সংবাদকর্মীকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে রূপ নিয়েছে।
বিএসটিআই সনদ ছাড়া উৎপাদন ও বাজারজাত?
সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব স্টিকার সংবলিত প্যাকেটে চিজ ও ঘি বিক্রি করছে। তবে এসব পণ্যে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর বাধ্যতামূলক অনুমোদন চিহ্ন দৃশ্যমান নয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট খাদ্যপণ্য প্যাকেটজাত ও বাজারজাতের ক্ষেত্রে বিএসটিআই অনুমোদন বাধ্যতামূলক। অনুমোদন ছাড়া উৎপাদন বা বাজারজাত করা হলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
প্রশ্ন উঠেছে—
প্রতিষ্ঠানের বৈধ উৎপাদন লাইসেন্স আছে কি?
মান নিয়ন্ত্রণ পরীক্ষার রিপোর্ট কোথায়?
স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে উৎপাদনের প্রমাণ কী?
এ প্রশ্নগুলোর কোনো সুস্পষ্ট জবাব এখনো পাওয়া যায়নি।
ভোক্তারা কি প্রতারিত হচ্ছেন?
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কম দামে পণ্য সরবরাহ করে দ্রুত বাজার দখলের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু মান নিয়ন্ত্রণ, সংরক্ষণ প্রক্রিয়া বা কাঁচামালের উৎস সম্পর্কে কোনো স্বচ্ছতা নেই।
খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, দুগ্ধজাত পণ্য যথাযথ তাপমাত্রা ও পরীক্ষাগার যাচাই ছাড়া উৎপাদিত হলে তা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
মালিকের বিরুদ্ধে অসহযোগিতা ও হুমকির অভিযোগ
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ‘রাফিয়া চিজ পয়েন্ট’-এর মালিক রফিকুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। জাতীয় দৈনিক অভয়নগর পত্রিকার বার্তা বিভাগ থেকে ফোন করা হলে প্রতিবেদকের অভিযোগ, তিনি প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে উল্টো উত্তেজিত প্রতিক্রিয়া দেখান এবং ফোনে হুমকিমূলক ভাষায় কথা বলেন।
প্রতিবেদকের দাবি অনুযায়ী, তিনি সংবাদ প্রকাশ করলে “ফল ভালো হবে না” বলে সতর্ক করেন—যা সরাসরি সাংবাদিককে ভয়ভীতি প্রদর্শনের শামিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। সংবাদকর্মীর পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা বা হুমকি প্রদান গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পরিপন্থী এবং আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হতে পারে।
তবে এ বিষয়ে রফিকুল ইসলামের আনুষ্ঠানিক লিখিত বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।
প্রশাসনের নীরবতা—কার স্বার্থ রক্ষা?
এত অভিযোগের পরও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর দৃশ্যমান তৎপরতা না থাকায় প্রশ্ন উঠেছে—
নিয়মিত তদারকি কোথায়?
লাইসেন্স যাচাই হয়েছে কি?
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও বিএসটিআই কি তদন্তে নেমেছে?
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এখন দেখার বিষয়
‘রাফিয়া চিজ পয়েন্ট’ প্রকৃতপক্ষে আইন মেনে উৎপাদন করছে, নাকি অনুমোদনবিহীনভাবে বাজারে খাদ্যপণ্য সরবরাহ করছে—তা নিরপেক্ষ তদন্তেই স্পষ্ট হবে।
কিন্তু প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—
যদি সবকিছু বৈধই হয়, তাহলে মালিক কেন স্বচ্ছভাবে কাগজপত্র দেখাতে এগিয়ে আসছেন না?
আর সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাব না দিয়ে হুমকির অভিযোগই বা কেন উঠছে? তদন্তই বলে দেবে সত্য কী।উক্ত অভিযোগের বিষয় অনুসন্ধান চলমান এবং অভিযোগের সকল তথ্য প্রমান আমাদের বার্তা বিভাগে সংরক্ষিত আছে
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com