ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ঘোড়াশাল ইউনিয়নর মুনুড়িয়া গ্রামে এখন শোকের ছায়া। উন্নত জীবনের আশায় বা পারিবারিক অশান্তির জেরে ঘর ছাড়া ২৮ বছর বয়সী তরুণ বাঁধন বিশ্বাস ফিরছেন লাশ হয়ে। ১০ দিন নিখোঁজ থাকার পর ভারতের রানাঘাট এলাকায় তার মরদেহ উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ ও আত্মীয়স্বজন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মুনিকুমার বিশ্বাসের ছেলে বাঁধন বিশ্বাস প্রায় ১০ দিন আগে ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল ও বাড়ি থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ টাকা নিয়ে কাউকে কিছু না বলে বেরিয়ে যান। পরে প্রতিবেশীদের মাধ্যমে পরিবার জানতে পারে, এক দালালের সহায়তায় সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি।
অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশি দালাল তাকে সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছে দিলেও ওপারে ভারতীয় দালালের তাকে নির্দিষ্ট সময় রিসিভ করার কথা ছিল। পরিবারের দাবি, বাঁধনের কাছে থাকা টাকার লোভে পড়ে দালাল চক্র তাকে হত্যা করে থাকতে পারে।
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী Border Security Force (বিএসএফ) মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে রানাঘাট এলাকায় অবস্থানরত স্বজনদের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। পরিবার জানায়, মরদেহে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের একাধিক চিহ্ন রয়েছে এবং বর্তমানে সেটি ভারতের একটি হাসপাতালের হিমঘরে সংরক্ষিত আছে।
নিহতের পরিবারের দাবি—
বাঁধনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে;
তার কাছে থাকা নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে;
দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ দেশে ফেরত আনা হোক।
আজ সকালে দুঃসংবাদ গ্রামে পৌঁছালে পুরো এলাকায় শোকের মাতম শুরু হয়। মা-বাবা ও স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দালাল চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, প্রশাসনের সহায়তায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com