বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে কর্মরত আউটসোর্সিং কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে বেতন না পাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, হাসপাতালের প্রধান সহকারী ও হিসাবরক্ষক মহিতুর রহমান বেতন পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে এখানে ৯৪ জন আউটসোর্সিং কর্মী দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে ৬৬ জন পূর্বের নিয়োগপ্রাপ্ত এবং ২৮ জন নতুনভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত। পূর্বের ৬৬ জন কর্মীর ২০২৫ সালের জুন মাস থেকে বেতন বন্ধ রয়েছে। প্রতিজনের মাসিক বেতন ১৬,৫০০ টাকা হলেও টানা আট মাস ধরে কোনো বেতন ভাতা পাননি। এর ফলে তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
ভুক্তভোগী কর্মীরা অভিযোগ করেছেন, বকেয়া বেতন দ্রুত ছাড়িয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে মহিতুর রহমান বিভিন্ন সময়ে পর্যায়ক্রমে প্রায় দেড় লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এমনকি অতীতে বেতন পরিশোধের সময়ও জনপ্রতি ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকা করে নেওয়া হতো। অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক অসীম কুমার সমাদ্দারকে একাধিকবার অবহিত করা হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
অভিযুক্ত হিসাবরক্ষক মহিতুর রহমানের অফিসে গেলে দেখা গেছে, রুমে তালা লাগানো এবং তিনি অন্যত্র চলে গেছেন। একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক অসীম কুমার সমাদ্দার অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
এছাড়া হাসপাতালের তিনটি সরকারি এম্বুলেন্স থাকা সত্ত্বেও সাধারণ রোগীরা দ্বিগুণ ভাড়া দিয়ে বহিরাগত এম্বুলেন্স সেবা নিতে বাধ্য হচ্ছেন। বহিরাগত ১৫ থেকে ২০টি এম্বুলেন্স থাকার কারণে একটি সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে, যার ফলে সাধারণ রোগীরা সরকারি এম্বুলেন্স সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এছাড়া এই বহিরাগত এম্বুলেন্স হাসপাতালের আঙ্গিনায় থাকার কারণে পরিবেশ নষ্ট হওয়া এবং মাদক সেবনকারীদের আড্ডা দেওয়ার অভিযোগও
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com