জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. বিচিত্রা রাণী দে’র বিরুদ্ধে দায়িত্বে গাফিলতি ও প্রাইভেট প্র্যাকটিসে ব্যস্ততার অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে অদক্ষ ও নিয়মিত উপস্থিত না থাকার কারণে বর্তমানে অন্য একজনকে ভারপ্রাপ্ত আরএমও হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, ডা. বিচিত্রা রাণী দে ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি এ পদে যোগদান করেন। তবে যোগদানের শুরু থেকেই তিনি দায়িত্বে অনীহা দেখান এবং অধিকাংশ সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। আরএমও পদটি হাসপাতালের দ্বিতীয় প্রধান হিসেবে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ দেখাশোনা করে, কিন্তু তার অদক্ষতার কারণে হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ সেবা গ্রহণ করে। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী মাদারগঞ্জ, সিরাজগঞ্জের কাজিপুর ও টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলা থেকেও প্রতিদিন শত শত রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। বহির্বিভাগে দৈনিক প্রায় ৪০০–৫০০ জন রোগী সেবা নেন।
অভিযোগ রয়েছে, ডা. বিচিত্রা রাণী দে অফিসে দেরি করে আসেন, প্রায়ই দুপুর ১টার মধ্যেই চলে যান এবং সরকারি কোয়ার্টার থাকা সত্ত্বেও বেসরকারি হাসপাতালের অভ্যন্তরে বাসা ভাড়া নিয়ে প্রাইভেট চিকিৎসা করেন। রোগীদের প্রাইভেট চেম্বারে পাঠানো, অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বাজে ব্যবহার সহ নানা অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেবাশীষ রাজবংশী বলেন, “ডা. বিচিত্রা রাণী দে দায়িত্বে থাকলেও হাসপাতালের প্রশাসনিক কাজ সম্পর্কে কিছুই জানেন না। তাই মাসখানেক আগে মেডিকেল কর্মকর্তা রবিউল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত আরএমও হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বারবার সতর্ক করা হলেও তিনি সংশোধন হননি।”
ডা. বিচিত্রা রাণী দে অভিযোগগুলো “মিথ্যা ও ভিত্তিহীন” দাবি করে মুঠোফোনে বলেন, “আমি আমার ব্যক্তিগত সমস্যার কথা স্যারকে জানিয়েছি। হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ বিষয় আপনারা কেন জানবেন? আমি কী করবো না করবো তা সিদ্ধান্ত নেওয়া আপনার অধিকার নয়।”
জামালপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আজিজুল হক বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com