সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলায় যমুনাপাড়ের ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে আল-আমান বাহেলা খাতুন জামে মসজিদ একটি অনন্য স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শন। এটি সিরাজগঞ্জ-এনায়েতপুর সড়কের মুকন্দগাঁতী এলাকায় অবস্থিত। মসজিদের সৌন্দর্য দেখতে প্রতি দিন দূর-দূরান্ত থেকে মুসল্লি ও দর্শনার্থীরা ছুটে আসেন।
মসজিদটির নির্মাণশৈলী আধুনিক ও মনোরম। ২০২১ সালের ২ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হওয়া এই মসজিদটি আড়াই বিঘা জমির ওপর নির্মিত। প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন রহমত গ্রুপের চেয়ারম্যান, প্রয়াত শিল্পপতি মোহাম্মদ আলী সরকার। টানা সাড়ে চার বছরের পরিশ্রমে প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে মসজিদটি গড়ে ওঠে। প্রতিদিন ৪৫ জন শ্রমিক নির্মাণ কাজে নিয়োজিত ছিলেন। শিল্পপতি নিজস্ব পরিকল্পনা অনুসারে মসজিদটির ডিজাইন করেছেন, কোনো স্থাপত্যবিদের ডিজাইন ব্যবহার করা হয়নি।
মসজিদে ১১০ ফুট উচ্চতার মিনার এবং ৩১ হাজার বর্গফুট জায়গা জুড়ে নির্মাণ করা হয়েছে। মিনার ও দেওয়ালে খচিত আছে আয়াতুল কুরসি, আর রহমানসহ বিভিন্ন কুরআনের আয়াত। ছোট ছোট গম্বুজ, মিনারের ভাঁজ, নামাজের স্থান, দেয়ালের রং-বেরঙের পাথর ও টাইলস—সব মিলিয়ে এটি যেন শিল্পীর তুলিতে আঁকা এক অনন্য ছবি।
মসজিদ কমপ্লেক্সে সাত হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারেন, বেশি হলে ভেতর ও আঙিনা মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। মসজিদে ইতালি ও ভারতের উন্নতমানের মার্বেল পাথর ও কাঠের কারুকাজ ব্যবহার করা হয়েছে।
খাদেম আব্দুল মান্নান জানান, মসজিদে ছাই রঙের বিশাল গম্বুজ, সাদা ঝকঝকে মেঝে, মার্বেল পিলার ও চীনের ঝলমল আলোসহ নান্দনিক ডিজাইন করা হয়েছে। মিনার থেকে আজানের ধ্বনি চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। মসজিদের চারপাশে সবুজ ঘাস এবং রং-বেরঙের লাইটিংয়ে রাতের বেলা অনন্য আবহ তৈরি হয়।
নির্মাণকালীন দায়িত্বে থাকা আলমগীর হোসেন জানান, মসজিদের পাশে ১০ তলা ভবনে ইমাম ও মুয়াজ্জিনের জন্য কোয়ার্টার, পাঠাগার ও শৌচাগার নির্মাণ করা হয়েছে। মুসল্লিদের সুবিধার জন্য অটোফিল্টার পানি দিয়ে ওজুর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
সৌন্দর্য, স্থাপত্য ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশের কারণে মসজিদটি শুধুমাত্র উপাসনালয় নয়; এটি একটি পর্যটনকেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত। ব্যস্ত সড়কের কোলাহল যেন স্পর্শ করতে পারে না মসজিদকে। দেশি-বিদেশি পর্যটকরা এর সৌন্দর্য ও নির্মাণশৈলী উপভোগ করে প্রতিদিন এখানে আসছেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com