বাংলাদেশের নারী ফুটবলের সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রা নিয়ে দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমের বাড়তি আগ্রহই প্রমাণ করে বাংলার মেয়েরা এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের শক্ত অবস্থান গড়ে তুলছে।
নারী ফুটবলের এই উত্থানের গল্প, সংগ্রাম ও সাফল্য তুলে ধরতে গণমাধ্যমের সক্রিয় ভূমিকা ফুটবলারদের দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করছে। সাংবাদিকদের নিরলস প্রচেষ্টায় দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে মেয়েদের প্রতিটি অর্জন। সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার ইমরুল কায়েস আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, শুধু এশিয়া কাপেই নয়, খুব শিগগিরই বাংলাদেশের মেয়েরা বিশ্বমঞ্চেও নিজেদের সাফল্যের স্বাক্ষর রাখবে।
সিডনিতে টেলিভিশন রিপোর্টার্স ইউনিটি অব বাংলাদেশ -ট্রাব এর আয়োজনে ইফতার ও নৈশভোজ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ থেকে আগত সাংবাদিকদের সম্মাননা জানাতে গিয়ে বক্তারা নারী ফুটবলের অগ্রগতি এবং গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করেন। ট্রাব এর সভাপতি ও ভয়েস অবে সিডনি সম্পাদক অর্ক হাসানের সভাপতিত্ব এবং সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির রোজ ও গালিব ইবনে রিয়াজের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সাবেক ক্রিকেটার ইমরুল কায়েস ছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিডনির সাবেক কাউন্সিলর শাহ জামান টিটু, অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ বিজনেস ফোরামের সভাপতি ও বাফুফের অস্ট্রেলিয়া প্রতিনিধি আব্দুল খান রতন, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি মনিরুল হক জর্জ, অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আব্দুল মতিন, অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ প্রেস অ্যান্ড মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি রহমতউল্লাহ এবং নাট্যকার বেলাল ঢালী।
বক্তারা বাংলাদেশ থেকে আগত সাংবাদিকদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান এবং দুই দেশের সাংবাদিকদের পারস্পরিক মতবিনিময় ও যোগাযোগ আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাদের মতে, মেয়েদের ফুটবলের ধারাবাহিক উন্নতির ফলেই আজ বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপের মতো বড় আসরে প্রতিনিধিত্ব করছে। এই বৈশ্বিক আসরের মাধ্যমে বিশ্বের কাছে স্পষ্ট হয়েছে। বাংলার মেয়েরাও প্রতিভা, সাহস ও সামর্থ্যে কোনো অংশে পিছিয়ে নেই।
বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) যদি নারী ফুটবলারদের আর্থিক নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা আরও সুসংহত করে, তবে ভবিষ্যতে আরও অনেক তরুণী ফুটবলের প্রতি আগ্রহী হবে। আফিদা, মিলি ও ঋতুপর্ণাদের মতো খেলোয়াড়রা ইতোমধ্যেই নতুন প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। বিশেষ করে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ চীনের বিপক্ষে তাদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রবাসী বাংলাদেশিরা দারুণভাবে মুগ্ধ করেছে।
বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আগামী দিনগুলোতেও বাংলাদেশের নারী ফুটবলের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। একদিন আন্তর্জাতিক কোনো বড় আসরে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেও বাংলাদেশের মেয়েরা দর্শকদের উচ্ছ্বাসে মাতিয়ে তুলবে। সেই আশাতেই প্রবাসী বাঙালিরা অপেক্ষা করছেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ থেকে আগত প্রায় ৩০ জন সাংবাদিককে ট্রfব অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে সম্মাননা সনদ প্রদান করা হয়। এছাড়াও বিশেষ সম্মাননা স্মারক হিসেবে বাফুফে সভাপতি তাবিদ আউয়াল, সাবেক ক্রিকেটার ইমরুল কায়েস এবং বিডি ক্রিকটাইমকে সম্মাননা সনদ দেওয়া হয়।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com