মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার তীব্র প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ঝিনাইদহের জনজীবনে। গত কয়েকদিন ধরে জেলার অধিকাংশ তেল পাম্পে সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশ্ববাজারে তেলের সংকট তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কায় শহর থেকে শুরু করে গ্রাম পর্যায়ের পাম্পগুলোতেও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা করছেন মানুষ।
সংকটের আশঙ্কায় অনেক পাম্প মালিক জ্বালানি বিক্রিতে অঘোষিত সীমা নির্ধারণ করেছেন। বর্তমানে ঝিনাইদহের বিভিন্ন পাম্পে একটি প্রাইভেট কারের জন্য সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা এবং মোটরসাইকেলের জন্য ২০০ টাকার বেশি জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে না। এছাড়া তেলের স্বল্পতার কারণে কিছু পাম্প সাময়িকভাবে বন্ধ রাখায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। ইরানের হামলার পর সৌদি আরবের একটি বড় তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির ঘাটতি দেখা দিয়েছে। আমদানিনির্ভর বাংলাদেশের ওপর এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে ডিজেলের মজুত কমে আসা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনকে বেগ পেতে হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ গ্যাস সরবরাহ কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে বলে জানা গেছে, যার ফলে সার উৎপাদন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে ঝিনাইদহ জেলাজুড়ে লোডশেডিংয়ের মাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে এবং গৃহস্থালি পর্যায়ে রান্নার গ্যাসের সংকটও দেখা দিতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
তবে সরকার জানিয়েছে, পবিত্র রমজান মাসে ইফতার, তারাবিহ ও সাহরির সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি আলোকসজ্জা পরিহার এবং ব্যক্তিগত যানবাহনের পরিবর্তে গণপরিবহন ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ইতোমধ্যে খোলা বাজারে ড্রামে করে তেল বিক্রি বন্ধ এবং জ্বালানি পাচার রোধে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, পেট্রোল ও অকটেনের মজুত সন্তোষজনক থাকলেও ডিজেলের মজুত তুলনামূলক কম। তাই অযথা আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল মজুদ না করার জন্য সাধারণ মানুষকে অনুরোধ জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জ্বালানি ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়া এবং সরকারের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com