কুড়িগ্রামের রৌমারীতে সরকারি হাসপাতালের স্টোরকিপার ফারুক হোসেনের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম উদ্ধার এবং তাকে আটকের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় স্বাস্থ্যখাতের অভ্যন্তরীণ অনিয়ম ও নজরদারির ঘাটতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ফারুক হোসেনকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ৪০ হাজার পিস সরকারি মেট্রোনিডাজল ট্যাবলেট এবং ১৮টি সরকারি ওজন মাপার মেশিন (ওয়েট মেশিন) উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া এসব সরকারি সামগ্রী কীভাবে হাসপাতালের স্টোর থেকে বের হয়ে তার দখলে গেল এবং সেগুলো কোথায় পাচার করা হচ্ছিল—তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, সরকারি হাসপাতালগুলোতে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের প্রধান ভরসা বিনামূল্যে পাওয়া ওষুধ। বিশেষ করে রৌমারীর মতো চরাঞ্চলবেষ্টিত এলাকায় সরকারি স্বাস্থ্যসেবার ওপর মানুষের নির্ভরতা বেশি। সেখানে বিপুল পরিমাণ ওষুধ চুরির ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আস্থাহীনতা তৈরি করেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এই ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা জরুরি। একই সঙ্গে হাসপাতালের ওষুধ সংরক্ষণ ও বিতরণ ব্যবস্থায় কোনো দুর্বলতা রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হাসপাতালের স্টোর ব্যবস্থাপনায় নিয়মিত ইনভেন্টরি অডিট, পর্যবেক্ষণ জোরদার এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। অন্যথায় সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ এবং ওষুধ পাচারের মতো ঘটনা প্রতিরোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ হবে এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবার ওপর মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com