রৌমারীতে সন্ধ্যায় স্মরণকালের ভয়াবহ শিলাবৃষ্টি বিধ্বংসী আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘক্ষণ স্থায়ী ঝড় এবং শিলাবৃষ্টিতে উপজেলার বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ ও বাগান লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে।
মুকুল ঝরছে, স্বপ্নও ঝরে যাচ্ছে
বসন্তকালে আম ও লিচুর গাছে গাছে মুকুলের সমারোহ ছিল। কৃষকরা বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছিলেন। কিন্তু শিলাবৃষ্টির আঘাতে অধিকাংশ মুকুল ঝরে পড়েছে, অনেক জায়গায় কচি ডালপালা ভেঙে গেছে। বাগানিরা আশঙ্কা করছেন, এবার আমের ফলন লক্ষ্যমাত্রার ধারেকাছেও পৌঁছাবে না।
প্রান্তিক কৃষকের অবস্থা শোচনীয়
মাঠে বাড়ন্ত ধানের শিষ আর ভুট্টার সবুজ উল্লাস এখন শিলাবৃষ্টিতে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। উপজেলার প্রান্তিক কৃষক আমজাদ হোসেন বলেন,
"অনেক কষ্টে ধার-দেনা করে দশ কাঠা জমিতে ধান চাষ করেছিলাম। আশা ছিল ধান বেচে দেনা শোধ করব। এখন ফলন না হলে পরিবার নিয়ে পথে বসতে হবে।"
ক্ষতির পরিধি বাড়ছে
কৃষি কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, ধান, ভুট্টা ছাড়াও রবি শস্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। টানা বর্ষণে নিচু জমিতে পানি জমে যাওয়ায় পচন ধরার ভয় দেখা দিয়েছে। রৌমারীর এই দুর্যোগ কেবল ফসলের ক্ষতি নয়, এটি হাজারো কৃষকের বেঁচে থাকার লড়াইকেও কঠিন করেছে।
সরকারি তদারকি ও দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় আমজাদ হোসেনদের মতো প্রান্তিক কৃষকদের মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়ানো অসম্ভব হয়ে যাবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com