বান্দরবানের লামা পৌরসভায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়িত একটি সড়ক ও কালভার্ট সংস্কার প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কাজ শেষ হওয়ার কয়েক মাস না পেরোতেই সড়কের বিভিন্ন অংশ ডেবে গিয়ে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে স্থানীয়রা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
প্রকল্পের বিবরণ
পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের লামা বাজার মৎস্য আড়ত থেকে হলি চাইল্ড স্কুল সংলগ্ন কালভার্ট পর্যন্ত সড়ক সংস্কারের জন্য 'লোকাল গভর্নমেন্ট কোভিড-১৯ রেসপন্স অ্যান্ড রিকভারি প্রজেক্ট' (LGCRRP)-এর আওতায় প্রায় ৯৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। প্রকল্পের সাইনবোর্ড অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১৭ নভেম্বরের মধ্যে মেসার্স থোয়াই মারমা নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজ শেষ করার কথা ছিল।
অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজের শুরু থেকেই নিম্নমানের ইট, বালু এবং প্রয়োজনের তুলনায় কম সিমেন্ট ও রড ব্যবহার করা হয়েছে। তদারকি সংস্থা লামা পৌরসভা যথাযথ নজরদারি না রাখায় ঠিকাদার নিজের ইচ্ছামতো কাজ করেছেন। ফলে উদ্বোধনের অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কের আরসিসি ঢালাই ফেটে চৌচির হয়ে গেছে এবং হলি চাইল্ড স্কুলের সামনের কালভার্ট ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
জনদুর্ভোগ
সড়ক ডেবে যাওয়ায় এই পথে চলাচলকারী কয়েক হাজার মানুষ এবং স্কুলগামী শিশুরা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে কাদা ও গর্তের কারণে রিকশা বা অটোরিকশার চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “দুর্নীতির কারণে আমাদের ট্যাক্সের টাকা জলে যাচ্ছে, অথচ ভোগান্তি আমাদেরই পোহাতে হচ্ছে।”
কর্তৃপক্ষের অবস্থান
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (LGED) কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে এলজিসিআরআরপি প্রকল্পের ওয়েবসাইটে সাধারণ নাগরিকদের জন্য অনিয়মের অভিযোগ জমা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
সচেতন মহল আশা করছেন, দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে সড়কের অনিয়ম খতিয়ে দেখা এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। পাশাপাশি, সড়কটি পুনরায় চলাচলের উপযোগী করে স্থানীয়দের ভোগান্তি নিরসন করা প্রয়োজন।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com