মোঃ মিজান, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম)
শীতের আগমনে গ্রামবাংলার সকাল–সন্ধ্যা এখন ভরে উঠেছে ভাপা পিঠার তপ্ত সুবাসে। কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরে মাটির চুলার হাঁড়ি থেকে উঠা ধোঁয়া মানুষের দৃষ্টি ও মন দুটোই টেনে নেয়। গ্রামাঞ্চলের দোকান, হাট-বাজার বা রাস্তার মোড়ে তৈরি হয় ছোট ছোট আড্ডার আসর, যেখানে শীতের উষ্ণতা খুঁজে পান সবাই।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শীত এলেই ভাপা পিঠার দোকানগুলো মিলনমেলায় পরিণত হয়। স্কুল–কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে দিনমজুর, কৃষক, কর্মজীবী মানুষ—সবাই কিছুক্ষণের জন্য হলেও থামেন গরম পিঠার স্বাদ নিতে। এতে যেমন শীত নিবারণ হয়, তেমনি জমে ওঠে হাসি–আড্ডায় ভরা সামাজিক মিলন। সেই ধারাবাহিকতায় আজ লোহাগাড়ার সুনামধন্য প্রতিষ্ঠান ‘ভাতঘর ইউনিট–২’ ছিল মানুষের পদচারণায় জমজমাট।
পিঠা বিক্রেতা মোঃ মোশারফ হোসেন জানান, শীতের মৌসুম এলেই তাদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে দোকানের সামনে লম্বা লাইন গড়ে ওঠে। ভাপা পিঠা বানানোর সময় যে ঘ্রাণ ও ধোঁয়া ছড়ায়—সেই গন্ধই ক্রেতাদের আকর্ষণের অন্যতম কারণ বলে তিনি উল্লেখ করেন। শুধু পিঠার স্বাদ নয়, অনেকেই এখানে দাঁড়িয়ে গল্প করেও সময় কাটান। তার ভাষায়, “আমার দোকানটা শীতকালে আসলেই একটা মিলনমেলায় পরিণত হয়।” আগের বছরের তুলনায় এ বছর বিক্রি আরও বেড়েছে; দিনে প্রায় ৬০০–৭০০টি পিঠা বিক্রি হচ্ছে।
শীতের কুয়াশা, ভাপা পিঠার ধোঁয়া আর মানুষের হাসি–আড্ডায় গ্রামীণ পরিবেশ যেন আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। শীতকাল তাই শুধু পিঠার স্বাদ নয়, সামাজিক বন্ধন আরও জোরদার করার এক অনন্য সময়।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com