
চীনের একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের শিক্ষার্থীদের জন্য এক ব্যতিক্রমী বার্তা দিয়েছে। বসন্তকালীন ছুটিতে বইপত্রে ডুবে না থেকে ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করা এবং প্রেমে পড়ার অভিজ্ঞতা নেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা হয়েছে। প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষাব্যবস্থার জন্য পরিচিত চীনে এমন আহ্বান বেশ অস্বাভাবিক হলেও এর পেছনে রয়েছে বড় সামাজিক ও অর্থনৈতিক চিন্তা।
সিচুয়ান সাউথওয়েস্ট ভোকেশনাল কলেজ অব এভিয়েশন গত ১৮ মার্চ তাদের অফিসিয়াল উইচ্যাট অ্যাকাউন্টে জানায়, ১ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটির এই সময়টিকে ‘ফুল দেখা ও রোমান্স উপভোগের’ বিশেষ থিম হিসেবে পালন করা হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার চাপ থেকে সাময়িক বিরতি নিয়ে সামাজিকভাবে আরও সক্রিয় হওয়ার সুযোগ করে দিতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।
এই উদ্যোগটি এসেছে এমন এক সময়ে, যখন চীন সরকার ঐতিহ্যগত গ্রীষ্ম ও শীতকালীন ছুটির পাশাপাশি বসন্ত ও শরৎকালীন ছুটি চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশন শিশু-বান্ধব নগর গড়ে তোলার লক্ষ্যে নতুন নির্দেশনাও দিয়েছে। ইতোমধ্যে সিচুয়ান ও জিয়াংসু প্রদেশের পাশাপাশি সুঝৌ ও নানজিং শহরেও বসন্তকালীন ছুটির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য দেশীয় পর্যটন ও বিনোদন খাতকে আরও সচল করা।
তবে এই পরিকল্পনার পেছনে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো চীনের জনসংখ্যা পরিস্থিতি। টানা কয়েক বছর ধরে দেশটির জনসংখ্যা কমছে এবং জন্মহার নেমে গেছে রেকর্ড নিম্ন পর্যায়ে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে এর প্রভাব আরও গভীর হতে পারে। তাই তরুণদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে তোলা, পরিবার গঠন এবং সামাজিক মেলামেশা বাড়ানোর মাধ্যমে পরিস্থিতি বদলানোর চেষ্টা চলছে।
জনতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞ ও ট্রিপ ডটকমের সহ-প্রতিষ্ঠাতা জেমস লিয়াং মনে করেন, সন্তান লালন-পালনের জন্য সময় ও আর্থিক সক্ষমতা দুটোই গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, তরুণদের মধ্যে বড় পরিবারের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরা এবং তাদের জন্য আর্থিক সহায়তা বাড়ানো গেলে জনসংখ্যা সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পরিবর্তন আনা সম্ভব।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com