গত কয়েকদিন ধরে ঝিনাইদহের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে মোটরসাইকেল আরোহীদের নজিরবিহীন ভিড় ও দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তেলের জন্য অপেক্ষা করছেন শত শত চালক। এতে জনভোগান্তি যেমন বাড়ছে, তেমনি সড়কে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট ও বিশৃঙ্খলা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতা ও সরবরাহ সীমাবদ্ধতার প্রভাব দেশের বাজারেও পড়েছে। তবে এ বাস্তবতার সুযোগ নিয়ে স্থানীয় কিছু অসাধু চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। অনেক পাম্পে তেল মজুত থাকা সত্ত্বেও ‘সরবরাহ নেই’ অজুহাতে গ্রাহকদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে গোপনে ড্রামভর্তি তেল বাড়তি দামে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে, যা বাজারে অস্থিরতা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া আতঙ্ক। তেল সংকটের গুজবে অনেকেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কিনছেন। যাদের ট্যাঙ্কে পর্যাপ্ত তেল রয়েছে, তারাও লাইনে দাঁড়িয়ে পুনরায় তেল নিচ্ছেন। এতে প্রকৃত চাহিদার তুলনায় কৃত্রিম চাহিদা বেড়ে গিয়ে সংকট আরও তীব্র হচ্ছে।
পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনের কারণে কোথাও কোথাও হাতাহাতি ও বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটছে। পাশাপাশি গ্যালন বা ড্রামে করে তেল মজুতের প্রবণতা বাড়ায় অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। সড়কের ওপর মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি শহরের স্বাভাবিক যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে।
সচেতন মহল বলছে, এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের কঠোর নজরদারি, নিয়মিত বাজার তদারকি এবং অসাধু মজুতদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষকে গুজবে কান না দিয়ে সচেতন ও সংযত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com