
হাফিজুর রহমান কালিগঞ্জ সাতক্ষীরা প্রতিনিধিঃ সারাদেশে শারদীয় দুর্গাপূজার ১২ দিন ছুটি শেষে স্বেচ্ছাচারিতা ভাবে বিদ্যালয় বন্ধ রাখার ঘটনায় সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কালিগঞ্জ আদর্শ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আওয়ামী লীগ নেতা শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ৩ কর্ম দিবসের মধ্যে জবাব দাখিলের জন্য কারণ দর্শানোর নোঠিশ জারি করা হয়েছে। গত ৯ অক্টোবর অত্র বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আওয়ামী দোসর সাবেক ছাত্রলীগ নেতা উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা এস ,এম আকরাম হোসেন এ কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করে আবার তার নির্দেশে প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম মঙ্গলবার নিঃস্বার্থ ক্ষমা চেয়ে জবাব দখিল করেছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে একই ঘটনায় প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামের বড় ভাই ওই বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী রফিকুল ইসলাম একটি হত্যার চেষ্টা মামলায় দীর্ঘদিন জেল হাজতে থাকায় তাকেও সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। প্রধান শিক্ষক আওয়ামী দোসর শফিকুল ইসলাম আপন ছোট ভাইকে হত্যা চেষ্টা মামলার আসামি হওয়ায় দীর্ঘদিন পলাতক থাকায় বিদ্যালয় থেকে অনুপস্থিত থাকলেও বলার কেউ নেই। গত মঙ্গলবার সারা দেশের শিক্ষকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলন থাকায় কর্ম বিরতি থাকলেও সকাল ১০ টার দিকে পুলিশি গ্রেপ্তার এড়াতে গোপনে ২ মিনিটের জন্য বিদ্যালয়ে যেয়ে হাজিরা খাতায় সই এবং কয়েকজন শিক্ষক, শিক্ষিকার সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে ভিডিও করে দ্রুত পালিয়ে যায় বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষক কর্মচারীরা জানান। বিষয়টির সত্যতা জনার জন্য মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে সরেজমিনে ওই বিদ্যালয় গেলে প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামের দেখা না মিললেও হাজিরা খাতায় ঠিকই সহি পাওয়া গেছে। তবে সেটা নাকি অত্র বিদ্যালয়ের সভাপতির পরামর্শে করলেও বিষয়টি সম্বন্ধে সভাপতি উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা এস ,এম আকরাম হোসেন কিছুই জানেন না বলে এ প্রতিনিধিকে জানান। তিনি আরো বলেন বিষয়টি প্রথম শুনলাম তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে অত্র বিদ্যালয়ের প্রায় অর্ধ কোটি টাকা নিয়োগ-বাণিজ্য, ঘুষ এবং দুর্নীতি ,স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগের তদন্তে মোটা অংকের টাকা ঘুষ নিয়ে এই আলোচিত প্রধান শিক্ষক শফিকুলের পক্ষে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিবেদন দেওয়ায় সে যাত্রায় রেহাই পায়। তার পুরস্কার হিসাবে আলোচিত ঐ প্রধান শিক্ষক যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আকরাম হোসেনকে তার বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি করান। সেই থেকে তার দেখ ভালোর দায়িত্ব পালন করে আসছে। বিগত সময়ে ৬ মাস স্কুলে অনুপস্থিত থাকার পরও তৎকালীন অত্র বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনুজা মন্ডল দায়িত্ব থাকলেও এই দুর্নীতিবাজ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ বা কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় তার দৌরাত্ম্য বেড়েই চলেছে। বর্তমানে প্রধান শিক্ষকের আপন ছোট ভাইয়ের জমি ফাঁকি দেওয়া কেন্দ্র করে প্রতিবাদ করায় ভাইকে পিটিয়ে, কুপিয়ে হত্যা চেষ্টা মামলার আসামি হয়ে দীর্ঘদিন পালিয়ে বেড়ালেও সভাপতি তাকে রক্ষা কবজের মতন আঁকড়ে ধরে আছে বলে এলাকাবাসী ও অভিভাবক বৃন্দ দাবি করেছেন। তাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে এলাকাবাসী পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসক মহোদয়ের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com