সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় মসজিদের তহবিল লুটের প্রতিবাদ করায় সমাজসেবক ফজল মিয়া (৫০) হত্যাকাণ্ডের ২৪ দিন পেরিয়ে গেলেও মামলার প্রধান দুই অভিযুক্ত এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে মাসুকসহ দুজনকে গ্রেফতার করা হলেও বর্শা দিয়ে আঘাতকারী ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত হারুন ও নুরই এখনো পলাতক।
নিহতের পরিবার অভিযোগ করেছে, পলাতক আসামিরা গ্রেফতার এড়ানোর পাশাপাশি মামলার সাক্ষী ও পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করতে একটি সাজানো পাল্টা মামলা দায়েরের পাঁয়তারা করছে। এতে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং এলাকাবাসীর মধ্যেও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে পুরান নোয়াকুট জামে মসজিদের প্রায় ৫ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রতিবাদ করায় প্রকাশ্যে ফজল মিয়াকে কুপিয়ে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই আলতাব হোসেন বাদী হয়ে ৪৬ জনের নাম উল্লেখ করে ছাতক থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এদিকে সদ্য সমাপ্ত ঈদে যখন চারদিকে আনন্দের আমেজ, তখন নিহতের পরিবারে ছিল শোকের ছায়া। পিতৃহারা তিন মেয়ে, দুই ছেলে ও স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যদের ঈদ কেটেছে অশ্রুসিক্ত পরিবেশে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এতিম শিশুদের কান্না এলাকাবাসীকে নাড়িয়ে দিয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, পলাতক দুই আসামির বিরুদ্ধে অতীতেও গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। হারুন একটি ডাকাতি মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি এবং নুরই একটি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্র দাবি করেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, অতীতে অপরাধ থেকে পার পেয়ে যাওয়ায় তারা এখনো বেপরোয়া।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল বলছে, অভিযুক্তরা নিজেদের দায় এড়াতে এবং মামলাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে পাল্টা মামলা দিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারকে চাপের মুখে ফেলতে চাচ্ছে।
ছাতক থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আব্দুর রহিম জানান, “গ্রেফতার হওয়া আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পলাতকদের ধরতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, “পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে একাধিক টিম কাজ করছে। খুব দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে আশা করছি। পাল্টা মামলার বিষয়ে কোনো তথ্য পেলে যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত ও পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com