তজুমদ্দিন উপজেলা-এর বাংলাবাজার এলাকায় বাকপ্রতিবন্ধী যুবক কবির রাঢ়ী হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়রা। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, স্বজন ও সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শম্ভুপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কবির রাঢ়ী হত্যার আট মাস পার হলেও তার পরিবার এখনো বিচার পায়নি। অভিযোগ উঠেছে, প্রভাবশালী মহলের চাপ ও অর্থের প্রভাবে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, গত ২৯ জুলাই বিকেলে নিজ এলাকা থেকে অপহরণের শিকার হন কবির। নিখোঁজের তিনদিন পর ১ আগস্ট সকালে বাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নিহতের ছোট ভাই কামরুল অভিযোগ করেন, অপহরণের পর থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে গেলে তা গ্রহণ করা হয়নি। এমনকি লাশ উদ্ধারের পর সন্দেহভাজনদের আটক করলেও পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। তিনি আরও জানান, হুমকি প্রদানকারী ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করতে চাইলেও তা গ্রহণ করা হয়নি; পরে বাধ্য হয়ে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়।
পরবর্তীতে ৫ আগস্ট নিহতের মা রোকেয়া বেগম বাদী হয়ে আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন, যেখানে কয়েকজনকে আসামি করা হয়। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, মামলার বাদী ও সাক্ষীদের নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
বক্তারা দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তারা বলেন, একজন বাকপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলেও দীর্ঘ সময়েও বিচার না পাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।
চার সন্তানের জনক কবির রাঢ়ীর পরিবার বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে। তার কনিষ্ঠ সন্তানের বয়স মাত্র ১৪ মাস। স্ত্রী, মা ও স্বজনরা রাষ্ট্রের কাছে ন্যায়বিচারের আবেদন জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে তজুমদ্দিন থানা-র অফিসার ইনচার্জ আব্দুস সালাম জানান, মামলাটি বর্তমানে তার অধীনে নেই এবং এর প্রতিবেদন ইতোমধ্যে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com