ভারত মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়াকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি দ্বীপটির আকাশসীমা সংলগ্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র সদৃশ বস্তু শনাক্ত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, গত ২১ মার্চ দিবাগত রাতে ওই অঞ্চলে দুটি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মতো বস্তু শনাক্ত করা হয়। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে দায় স্বীকার করেনি এবং বিষয়টি নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে।
কিছু পশ্চিমা বিশ্লেষক এই ঘটনার জন্য ইরানকে দায়ী করার ইঙ্গিত দিলেও তেহরান তা দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে। ইরানের পক্ষ থেকে এটিকে ‘ভিত্তিহীন অভিযোগ’ এবং ‘ভুল ব্যাখ্যা’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি সত্য হয়ে থাকে, তবে তা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। কারণ, দিয়েগো গার্সিয়া ইরান থেকে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি কৌশলগত সামরিক ঘাঁটি, যা যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ ব্যবহারে রয়েছে।
দিয়েগো গার্সিয়া দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে সামরিক কার্যক্রম পরিচালনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ফলে এ ঘাঁটিকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের উত্তেজনা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
ঘটনার পর যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা দেশগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করলেও সরাসরি কোনো সামরিক প্রতিক্রিয়ার ঘোষণা দেয়নি। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, বিষয়টি এখনও পর্যবেক্ষণ পর্যায়ে রয়েছে এবং যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক বিশ্বে দূরপাল্লার অস্ত্র প্রযুক্তির উন্নতির কারণে ভৌগোলিক দূরত্ব আর নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নয়। এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নতুন করে ভাবনার সুযোগ তৈরি করছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com