সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় পেট্রোলের কৃত্রিম সংকট, কালোবাজারে বিক্রি ও অতিরিক্ত দামের অভিযোগে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। এ অবস্থায় আকস্মিকভাবে ফিলিং স্টেশন পরিদর্শনে গিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ায় জনমনে স্বস্তি ফিরেছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ মার্চ) বেলা ১০টার দিকে কালিগঞ্জ-আশাশুনি আসনের সংসদ সদস্য রবিউল বাশার উপজেলার বিভিন্ন তেল পাম্প পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সঙ্গে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মইনুল ইসলাম খানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে কালিগঞ্জ ফিলিং স্টেশনে পর্যাপ্ত পেট্রোল মজুদ থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বিক্রি সীমিত রাখার প্রমাণ পাওয়া যায়। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে এমপি সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটলে পাম্প সিলগালা করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
পরে লুকানো মজুদকৃত পেট্রোল গ্রাহকদের মাঝে বিতরণ করা হলে দীর্ঘদিনের ভোগান্তিতে থাকা সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। তিনি পার্শ্ববর্তী স্টার ফিলিং স্টেশনও পরিদর্শন করেন।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তেল সংকটের কারণে মোটরসাইকেল চালক ও গাড়ির মালিকরা রাতভর লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক সময় তেল পাননি। অনেক ক্ষেত্রে ১০০ টাকার তেল পেতে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে। অন্যদিকে কালোবাজারে অতিরিক্ত দামে পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেন বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে গত মঙ্গলবার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের পারুলগাছা এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি দোকান থেকে ১৩ ব্যারেল পেট্রোল ও ১ ব্যারেল অকটেন উদ্ধার করে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন হাটবাজারে একটি সিন্ডিকেট চক্র কালোবাজার থেকে তেল কিনে বেশি দামে বিক্রি করছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তেল সংগ্রহের ক্ষেত্রে হেলমেট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রদর্শনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বস্তিকর হবে না বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com