দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই–ফেব্রুয়ারি) রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২০৩ কোটি ২ লাখ টাকায়। বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানিতে জটিলতা ও দীর্ঘ সময়ের প্রক্রিয়ার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে আমদানিকারকরা দাবি করছেন। তবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছেন, সমস্ত ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে এ স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বৃদ্ধি করা হবে।
হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের তথ্যমতে, জুলাই মাসে ৫৬ কোটি ২১ লাখ টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৩৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকা রাজস্ব আহরণ হয়েছে। এরপর আগস্টে ৪৪ কোটি ৮৮ লাখ, সেপ্টেম্বর ৪৫ কোটি ৪৮ লাখ, অক্টোবর ৫৬ কোটি ৫৯ লাখ, নভেম্বর ৪২ কোটি ৯৯ লাখ, ডিসেম্বর ৪৭ কোটি ৭০ লাখ, জানুয়ারি ৪৪ কোটি ৯১ লাখ এবং ফেব্রুয়ারি ৫৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা আহরণ হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে লক্ষ্য ছিল ৫৭৬ কোটি ৩ লাখ টাকা, কিন্তু প্রকৃত আহরণ হয়েছে ৩৭৩ কোটি ১ লাখ টাকা।
হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক দীনেশ পোদ্দার অভিযোগ করেন, বন্দর ব্যবহারে দীর্ঘ সময় লাগার কারণে ব্যবসায়ীরা অন্য স্থলবন্দর ব্যবহার করতে আগ্রহী হচ্ছেন। পণ্যের ছাড় প্রক্রিয়া হিলে প্রায় ৭–১৫ দিন সময় লাগে, ফলে পণ্যের অর্ডার বাতিল হয়ে যায় বা বাজারে দাম কমে যায়। তিনি মনে করেন, দ্রুত পণ্য ছাড়ের ব্যবস্থা করলে আমদানিও বাড়বে এবং রাজস্ব আহরণও বৃদ্ধি পাবে।
সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট শাহিনুর ইসলাম জানান, হিলি বন্দরের প্রধান আমদানি পণ্য জিরার রাজস্ব কমে গেছে, কারণ এখন অধিকাংশ জিরা সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে আনা হচ্ছে, যেখানে অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এক গাড়ি জিরা আমদানির মাধ্যমে পূর্বে ৫০ লাখ টাকার রাজস্ব আসত, যা হ্রাস পেয়েছে।
উপকমিশনার সন্তোষ সরেন বলেন, কাস্টমসের ক্ষেত্রে কোনো স্থির লক্ষ্যমাত্রা নেই। এলসি বৃদ্ধির মাধ্যমে আমদানি বাড়ানো সম্ভব। তিনি বলেন, বাণিজ্য সহজীকরণ ও পণ্যের দ্রুত শুল্কায়নের জন্য সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com