জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে দলটি প্রথমবারের মতো সংসদে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকায় তাদের রাজনৈতিক কৌশল ও অবস্থান নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
দলটির নেতারা বলছেন, তারা প্রচলিত বিরোধী রাজনীতির ধারা থেকে বেরিয়ে এসে গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে চান। অতীতে শুধু বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা করার যে সংস্কৃতি ছিল, সেখান থেকে সরে এসে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করাই তাদের লক্ষ্য।
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, “আমরা গঠনমূলক রাজনীতি করতে চাই। আগে বিরোধীদলকে অনেক সময় প্রয়োজন থাক বা না থাক, শুধু বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করতে হতো। আমরা সেই ধারা থেকে বের হতে চাই।”
দলটির মুখপাত্র অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহমুদ জুবায়ের জানান, দীর্ঘ সময় পর একটি নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠিত হয়েছে এবং বিরোধী দল হিসেবে তাদের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে সংসদে জনগণের পক্ষে কথা বলা। তিনি বলেন, “জনগণের সুবিধা-অসুবিধা, কষ্ট-বেদনা—সব বিষয় সংসদে তুলে ধরাই আমাদের লক্ষ্য।”
তবে সংসদের প্রথম অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতির ভাষণের প্রতিবাদে ওয়াকআউট করে দলটি তাদের অবস্থানও স্পষ্ট করেছে। নেতারা জানিয়েছেন, সরকারের ইতিবাচক ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে তারা সমর্থন দেবে, কিন্তু জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—বিশেষ করে ‘জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা’—এ কোনো ছাড় দেবে না।
এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, “সরকার যদি জনগণের পক্ষে কাজ করে, আমরা অবশ্যই সমর্থন দেব। আর যদি জনগণের বিপক্ষে যায়, তাহলে সংসদ ও রাজপথ—দুই জায়গাতেই প্রতিবাদ হবে।”
একইভাবে অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহমুদ জুবায়ের বলেন, দলটি সংসদের ভেতরে গঠনমূলক সমালোচনা করবে এবং প্রয়োজনে রাজপথে আন্দোলনও চালাবে।
দলটির জ্যেষ্ঠ নেতাদের বক্তব্যে স্পষ্ট, তারা সংসদীয় গণতন্ত্রে আস্থা রেখে নিজেদের একটি দায়িত্বশীল ও কার্যকর বিরোধীদল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তবে বাস্তবে এই কৌশল কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে তাদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও অবস্থানের ওপর।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com