কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল না পাওয়ার অভিযোগ বেড়েই চলেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ মার্চ জেলা প্রশাসনের এক নির্দেশনায় খোলা বাজারে জ্বালানি তেল বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে তদারকির জন্য ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়। এতে কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণে এলেও নির্দিষ্ট পাম্পগুলোর ওপর চাপ বেড়ে গেছে।
রৌমারীর ব্রহ্মপুত্র ফিলিং স্টেশনে সরেজমিনে দেখা যায়, ভোররাত তিনটা থেকেই মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন শুরু হয়, যা সকাল গড়াতে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও অনেকেই সময়মতো তেল পাচ্ছেন না।
লাইনে দাঁড়ানো ভুক্তভোগী আতাউর রহমান বলেন, ভোর থেকে অপেক্ষা করেও তেল পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে পেশাগত কাজে মোটরসাইকেলের ওপর নির্ভরশীলদের দুর্ভোগ আরও তীব্র। এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী রায়হান কবির জানান, সময়মতো তেল না পেলে কর্মস্থলে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না, যা তার চাকরির জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, কঠোর তদারকি ও নিয়ম মেনে তেল সরবরাহ করায় প্রতিটি গ্রাহককে সেবা দিতে বেশি সময় লাগছে। ফলে সরবরাহ প্রক্রিয়া ধীর হয়ে লাইনের দৈর্ঘ্য বাড়ছে।
তবে প্রশাসনের এই উদ্যোগে জ্বালানি তেলের কালোবাজারি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। কিন্তু দীর্ঘ সময় অপেক্ষা, কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়া এবং প্রতিদিনের দুর্ভোগ সাধারণ মানুষের জন্য বড় সমস্যায় পরিণত হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ, তেল সরবরাহ কেন্দ্র বৃদ্ধি এবং বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন না হলে সংকট আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com