দেশের আর্থিক খাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল ঝুঁকি মোকাবিলায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রথমবারের মতো প্রবর্তন করা হয়েছে ‘সাইবার সিকিউরিটি ফ্রেমওয়ার্ক, ভার্সন ১.০ (২০২৬)’, যা দেশের সব ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, এমএফএস এবং পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটরদের জন্য একটি অভিন্ন ও শক্তিশালী সুরক্ষা কাঠামো হিসেবে কাজ করবে। আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অনলাইন সেবা, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং আন্তঃসংযুক্তি নেটওয়ার্কের ব্যবহার যেমন বেড়েছে, তেমনি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে হ্যাকিং, ফিশিং ও র্যানসমওয়্যারের মতো জটিল সাইবার হুমকি। এতদিন প্রতিটি প্রতিষ্ঠান নিজেদের সক্ষমতা অনুযায়ী আলাদা আলাদা নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করত, যার ফলে সুরক্ষার মানে বড় ধরনের তারতম্য পরিলক্ষিত হতো। কোনো প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত শক্তিশালী হলেও অন্যটির দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে পুরো আর্থিক ব্যবস্থা ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা থাকত। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নতুন নির্দেশিকা সেই ব্যবধান ঘুচিয়ে একটি ন্যূনতম অভিন্ন মানদণ্ড নির্ধারণ করে দিয়েছে, যা আর্থিক স্থিতিশীলতা ও গ্রাহকের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নতুন কাঠামোটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড যেমন আইএসও ২৭০০১ এবং এনআইএসটি সাইবার নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। এতে শাসন, শনাক্তকরণ, সুরক্ষা, প্রতিক্রিয়া এবং পুনরুদ্ধারের মতো মৌলিক বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, কোনো প্রতিষ্ঠান চাইলে এই কাঠামোর চেয়েও অধিক শক্তিশালী ব্যবস্থা নিতে পারবে, তবে এর নিচে কোনোভাবেই নামা যাবে না। ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এই নীতিমালা পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ডিজিটাল লেনদেনে স্বচ্ছতা ও গোপনীয়তা রক্ষার পাশাপাশি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত সাইবার হামলার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের দায়বদ্ধতা আরও সুনির্দিষ্ট হবে। মূলত প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর স্থায়িত্ব রক্ষা এবং সাইবার অপরাধীদের হাত থেকে আর্থিক খাতকে নিরাপদ রাখতেই এই দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যা দেশের স্মার্ট ইকোনমি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com