সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার নলতা ঘোড়াপোতা মোড়ে অবস্থিত নলতা ডায়াবেটিক অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী রোগী জাফরিন আক্তার এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দেবহাটা উপজেলার ঘোনাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ওমর ফারুকের স্ত্রী জাফরিন আক্তার প্রসূতি ব্যথা নিয়ে গত ১৭ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে ওই হাসপাতালে ভর্তি হন। এ সময় খণ্ডকালীন চিকিৎসক ডা. নাসরিন নাহার একটি অপারেশন পরিচালনা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে রোগীর ক্ষতস্থানে সংক্রমণ দেখা দিলে ১৭ ডিসেম্বর পুনরায় অপারেশন করা হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, একাধিকবার অপারেশনের পরও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় অন্য হাসপাতালে নিয়ে গেলে পূর্বের চিকিৎসায় ত্রুটি ছিল বলে সেখানে জানানো হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে অন্য একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় গত ২৮ জানুয়ারি সাতক্ষীরা সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে ২ মার্চ দুই সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ডালিয়া আক্তার সাথীকে প্রধান এবং সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. ইসমত জাহান সুমনাকে সদস্য করা হয়।
তবে ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করেছে, তদন্ত প্রতিবেদনে সঠিক তথ্য প্রতিফলিত হয়নি এবং এতে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে। তারা দাবি করেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক মিলন হোসেন বলেন, চিকিৎসা ব্যয়ের কিছু অর্থ রোগীর পরিবারকে দেওয়া হয়েছে। তবে রোগীর স্বামী ওমর ফারুক এ দাবি অস্বীকার করেছেন।
অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. নাসরিন নাহার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তদন্ত প্রক্রিয়া সঠিকভাবে হয়নি।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার ঘটনা আগেও ঘটেছে। তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com