সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ফুয়েল কার্ড সংগ্রহ করতে মোটরসাইকেল চালক ও যানবাহন মালিকদের উপচে পড়া ভিড় ও দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়েছে। জেলা প্রশাসনের নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করেই এ পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে সিরাজগঞ্জ জেলায় ‘ফুয়েল কার্ড’ ছাড়া কোনো যানবাহনে পেট্রোল বা অকটেন সরবরাহ করা হবে না। “নো ফুয়েল কার্ড, নো পেট্রোল-অকটেন” নীতির আওতায় এই কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে।
এই কার্ড বিতরণ কার্যক্রম ৩০ ও ৩১ মার্চ সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পরিচালিত হচ্ছে। কার্ড সংগ্রহের জন্য আবেদনকারীদের যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর, চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি জমা দিতে হচ্ছে।
কার্ড সংগ্রহের শেষ সময় ঘনিয়ে আসায় হাজার হাজার মানুষ একযোগে কার্ড নিতে আসছেন। ফলে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়ে গ্রাহকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এই ফুয়েল কার্ড সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি জাতীয় পরিচয়পত্র, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন কপি, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও পাসপোর্ট সাইজের ছবি জমা দিয়ে কার্ড সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আমিনুল ইসলাম জানান, জ্বালানি তেল সরবরাহে শৃঙ্খলা আনা এবং অবৈধ মজুদ ও অপব্যবহার রোধে সিরাজগঞ্জসহ কয়েকটি জেলায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “১ এপ্রিল থেকে ফুয়েল কার্ড বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। কার্ড সংগ্রহে অনেকেই আসছেন এবং কোনো বড় ধরনের সমস্যা ছাড়াই কার্ড পাচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।”
এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পাম্পগুলোতে জ্বালানি বিতরণ কার্যক্রম চালু থাকবে। কৃষক ও পরিবহন খাতে বিশেষ ক্ষেত্রে শিথিলতা রাখা হয়েছে এবং ডিজেল সরবরাহ ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com