পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, সুন্দরবন উপকূলীয় মানুষকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে মায়ের মতো আগলে রাখে এবং বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের পরিচিতি বহন করে। তাই দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সুন্দরবনকে যে কোনো মূল্যে বনদস্যুমুক্ত করা হবে।
বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে মধু আহরণ মৌসুমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সুন্দরবনের মধুর বিশ্বব্যাপী ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। মৌয়ালরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মধু সংগ্রহ করে দেশের রাজস্ব খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাদের নির্বিঘ্নে মধু সংগ্রহ নিশ্চিত করতে বন বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠান শেষে তিনি বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশন চত্বরে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।
খুলনা অঞ্চলের বিভাগীয় বন সংরক্ষক এ. জেড. হাসানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জি এম নজরুল ইসলাম, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ আফরোজা আখতার এবং জেলা পুলিশ সুপার মোঃ আরেফিন জুয়েলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
উল্লেখ্য, প্রতি বছরের মতো এবারও ১ এপ্রিল থেকে ৩০ মে পর্যন্ত দুই মাসব্যাপী সুন্দরবনে মধু আহরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চলতি বছরে মধু আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১,১০০ কুইন্টাল এবং মোম সংগ্রহ ৬০০ কুইন্টাল। প্রতি কুইন্টাল মধুর জন্য ১,৬০০ টাকা এবং মোমের জন্য ২,২০০ টাকা রাজস্ব নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ থেকে মধু খাতে ১৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং মোম খাতে ১৩ লাখ ২০ হাজার টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। কোস্টগার্ড ও বন বিভাগের সমন্বয়ে যৌথ টহল জোরদার করা হবে এবং মৌয়ালদের বন্যপ্রাণীর আক্রমণ থেকে সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com