উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা এবং সরকারের সতর্কবার্তা সত্ত্বেও রাজধানীর বনানী-মহাখালী এলাকায় থামছে না অবৈধ কোচিং বাণিজ্য। বিশেষ করে মহাখালী ওয়্যারলেস গেইট এলাকার জ-১৪৪ নম্বর বাড়িতে ‘রেডন’ নামের একটি কোচিং সেন্টার প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উক্ত ভবনের নিচতলায় একই ফ্লোরে ‘রেডন’ কোচিং সেন্টারের পাশাপাশি ‘মায়ের দোয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল’, একটি মহিলা মাদ্রাসা এবং ললিতকলা একাডেমির কার্যক্রম চলছে। এতে শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের মতে, আবাসিক এলাকায় এভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গাদাগাদি অবস্থান শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
অভিযোগ রয়েছে, কোচিং সেন্টারটি শিক্ষার্থী আকর্ষণে বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করছে। স্থানীয় স্কুলগুলোর সামনে লিফলেট বিতরণ এবং ‘ফ্রি হাই-স্পিড ওয়াইফাই’ সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের টানার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার চেয়ে ভিন্নদিকে আকৃষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন অভিভাবকরা।
২০১৯ সালে উচ্চ আদালতের এক রায়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য নিষিদ্ধ করা হয় এবং সরকারের নীতিমালাকে বৈধতা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অনুমোদন ছাড়া কোনো কোচিং সেন্টারের একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনাও বেআইনি।
এ বিষয়ে কোচিং সেন্টারের এক দায়িত্বশীল ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তারা কেবল শিক্ষার্থীদের গাইডলাইন দিয়ে থাকেন এবং এটিকে বাণিজ্য বলা ঠিক নয়।
অন্যদিকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এক কর্মকর্তা জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এ ধরনের কোচিং পরিচালনা সম্পূর্ণ অবৈধ। ফ্রি ওয়াইফাই বা লিফলেটের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করাও অনৈতিক। খুব শিগগিরই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
একজন অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, স্কুলগেটে লিফলেট বিতরণের কারণে শিশুরা বিভ্রান্ত হচ্ছে এবং আবাসিক এলাকায় ঘিঞ্জি পরিবেশে কোচিং পরিচালনায় নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্থানীয় প্রশাসনের দুর্বল নজরদারির সুযোগে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ কোচিং সেন্টার গড়ে উঠছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এর নেতিবাচক প্রভাব আরও বাড়তে পারে।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com