প্রথম পর্ব
মেলোডির বড় বোন রোজিনার গায়ে হলুদ। আগামীকাল অনুষ্ঠানটি তার বাবার জামালপুরের বাসায়। সেখান থেকে আম্মা বারবার ফোন করে তাড়া দিচ্ছেন—যত দ্রুত সম্ভব ঢাকা থেকে যেন জামালপুরে পৌঁছায়।
কিন্তু মেলোডি এখন এক কঠিন বাস্তবতার মধ্যে আটকে। তার অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা চলছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়-এর “সরকার ও রাজনীতি” বিভাগের ছাত্রী সে। তবে পাঠ্যবইয়ের চেয়ে আউট বই পড়তেই তার বেশি আগ্রহ।
আগামীকাল তার “দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি” কোর্সের পরীক্ষা। অথচ গত কয়েকদিনে সে ডুবে আছে এক ভিন্ন জগতে—স্টিফেন হকিং-এর স্ট্রিং থিওরি নিয়ে লেখা বইয়ে। সার্ক, সাফটা, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক—এসবের চেয়ে স্ট্রিং থিওরির এগারোটি ডাইমেনশন এখন তার মাথায় বেশি ঘোরাফেরা করছে।
ভাবতে ভাবতেই তার নিজের ওপর একটু বিরক্তি আসে। এভাবে যদি সে পরীক্ষার পড়ায় মন দিত, তাহলে নির্ঘাৎ ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হতো। যদিও তার রেজাল্ট শুরু থেকেই ক্লাসের প্রথম তিনজনের মধ্যে—তবুও প্রথম হওয়া তো আর হয়নি!
বিকেলের নাশতায় রানু খালা চিলি চিকেন চাওমিন বানিয়ে দিয়েছেন। রানু খালা এই বাড়ির শুধু কাজের মানুষ নন—প্রায় পরিবারেরই একজন। মেলোডির জন্মের আগ থেকেই তিনি এই বাসায় আছেন। মা যখন অফিসে ব্যস্ত থাকতেন—একটি সরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা হিসেবে—তখন এই রানু খালার কোলে-পিঠেই বড় হয়েছে মেলোডি।
চাওমিন খেতে খেতে মেলোডি ঠিক করলো—স্ট্রিং থিওরি আপাতত বন্ধ। এবার একটু পরীক্ষার পড়ায় মন দিতে হবে।
কিন্তু বরাবরের মতোই হলো। মাত্র পনেরো মিনিট পড়ার পরই ঘুম যেন নেকড়ের মতো অতর্কিতে ঝাঁপিয়ে পড়লো তার চোখে।
পড়ার টেবিলে মাথা রেখেই গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলো সে।
আর সেই ঘুমের ভেতরেই শুরু হলো এক অদ্ভুত স্বপ্ন—স্ট্রিং থিওরির জগৎ নিয়ে।
প্রথমে সে নিজেকে দেখতে পেলো—একটি বিন্দু হিসেবে। স্ট্রিং থিওরির প্রথম ডাইমেনশনে ভাসমান একটি অস্তিত্ব…
(চলবে)
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com