এক সময় যার অপেক্ষায় দরজার দিকে তাকিয়ে থাকত মানুষ, সেই চিরচেনা ডাকপিয়নের ঘণ্টা আজ যেন স্মৃতির পাতায় বন্দি। প্রযুক্তির প্রবল জোয়ারে হাতে লেখা চিঠির আবেগ ফিকে হয়ে এলেও আধুনিকায়নের ছোঁয়ায় নতুনভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা দেখছে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ।
একসময় দূর-দূরান্তের স্বজনদের খবর পাওয়ার একমাত্র মাধ্যম ছিল চিঠিপত্র। ডাকপিয়ন খাম হাতে বাড়ির আঙিনায় এলেই পরিবারের মধ্যে বইত আনন্দের ঢেউ। হারিকেন হাতে রাতের আঁধারে চিঠি পৌঁছে দেওয়া সেই দৃশ্য ছিল আস্থার প্রতীক। কিন্তু ডিজিটাল যুগে ই-মেইল, মেসেজিং অ্যাপ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে সেই চিঠির যুগ এখন অনেকটাই অতীত।
তবে সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে না পারলেও ডাক বিভাগকে অবহেলা করার সুযোগ নেই। এটি কেবল একটি সেবা সংস্থা নয়, বরং রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ও ঐতিহ্যের অংশ। বর্তমান বাস্তবতায় এই প্রতিষ্ঠানকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবার মাধ্যমে পুনর্গঠন করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডাক বিভাগকে টিকিয়ে রাখতে হলে সেবার পরিধি বাড়াতে হবে। ইতোমধ্যে ই-কমার্স পণ্য সরবরাহ, ডাক জীবন বিমা ও মোবাইল ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এসব সেবাকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করতে তৃণমূল পর্যায়ে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন।
ডাক বিভাগের ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে সেবার মান ও গতি বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। পুরোনো ডাকঘরগুলো আধুনিক ডিজিটাল সেন্টারে রূপান্তর করা গেলে সাধারণ মানুষের আস্থা আবারও ফিরিয়ে আনা সম্ভব। যদিও চিঠির সেই পুরোনো আবেগ পুরোপুরি ফিরে আসবে না, তবে আধুনিক সেবার মাধ্যমে ডাক বিভাগ আবারও মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে পারে।
সরকারি এই অমূল্য প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখা এবং যুগের চাহিদা অনুযায়ী আধুনিকায়ন করা এখন অত্যন্ত জরুরি। ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে ডাক বিভাগই হতে পারে আগামীর স্মার্ট বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com