সরকার গঠনের পর রাষ্ট্র পরিচালনায় দেওয়া প্রতিশ্রুতি ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে বিএনপি। তবে যেসব বিষয়ে দলটির ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত ছিল, সেগুলো বাদ দিয়েই এই সনদ কার্যকর করা হবে। শনিবার রাতে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে সরকারের প্রথম ৪৭ দিনের কার্যক্রম মূল্যায়ন এবং বর্তমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলার করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান সাংবাদিকদের জানান, জুলাই সনদে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। তবে যেসব বিষয়ে আগে থেকেই দলের ভিন্নমত ছিল, সেগুলো বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা থাকবে না।
বৈঠকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়েও আলোচনা হয়। জানানো হয়, বেশিরভাগ অধ্যাদেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর থাকলেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ পুনরায় যাচাই-বাছাই করা হবে। গুম কমিশন বাতিলের গুঞ্জন নাকচ করে বলা হয়, কমিশন বাতিল নয়; বরং পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হবে।
দেশের চলমান জ্বালানি সংকটকে জরুরি সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি দলের কাউন্সিল আয়োজনের বিষয়টি উত্থাপিত হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা দ্রুত আয়োজন সম্ভব নাও হতে পারে বলে মত দেওয়া হয়।
বৈঠকে অন্যান্য রাজনৈতিক দল, যেমন জামায়াতে ইসলামী বা এনসিপি (জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক পার্টি) প্রসঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে ড. মঈন খান বলেন, গণতন্ত্রে ভিন্নমত ও বিরোধিতা থাকা স্বাভাবিক এবং তা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য বাড়ায়।
সরকার গঠনের পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই প্রথম বৈঠকটি নীতিনির্ধারণী দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বিবেচনায় রেখে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তটি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক
মোঃ শাহিন হোসেন
www.dainikabhaynagar.com